গঠনতন্ত্র

লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার,নারায়নগঞ্জ
এটি একটি অ-রাজনৈতিক, সেবামূলক, দ্বীনি ও সামাজিক সংগঠন।

প্রতিষ্ঠা
২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ইং

আদর্শ
কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ অনুসারনে সাহাবায়ে কেরামের নমুনায় আদর্শ সামাজিক জীবন গঠন

থানা নির্বাহি কমিটি কর্তৃক যাচাই কৃত ও উপদেষ্টা পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত-

অধ্যায়-১ : প্রারম্ভিক বিধান
ধারা ১: নাম
সংগঠনের পূর্ণ নামÑ লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার
আরবি: لجنه العلماء ارائي هزار
ইংরেজি: খধুহধঃঁষ টষধসধ অৎধরযধুধৎ

ধারা ২ : প্রতিষ্ঠা
সংগঠনটি ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ (২/২/২০১৮ ইং) তারিখে প্রতিষ্ঠিত।
হিজরি: ২৬ জুমাদাল উলা ১৪৪০ হি.
ধারা ৩: সংগঠনের লোগো, অস্থায়ী কার্যালয় বা স্থায়ী কার্যালয়। সরকারি রেজিস্ট্রেশন নাম্বার।
ধারা ৪ : প্রকৃতি
এটি একটি অ-রাজনৈতিক, সেবামূলক, দ্বীনি ও সামাজিক সংগঠন।
ধারা ৫: আদর্শ
কুরআন ও সুন্নাহ অনুসরনে সাহাবায়ে কেরামের নমুনায় ছাত্র ও আলেম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে দ্বীনি খেদমত,সমাজ সংস্কার ও সমাজকল্যাণ।

ধারা ৬: এই গঠনতন্ত্র লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার এর কমিটির ও সকল সদস্যের জন্য সংবিধান হিসাবে পালনীয় সর্ব সম্মতিক্রমে গৃহিত। এতে রয়েছে ২১টি অধ্যায় এবং ১০৯টি ধারা।
অধ্যায়- ২ : ভূমিকা ও প্রেক্ষাপট
ধারা ১ : সংগঠন গঠনের প্রয়োজনীয়তা
(ক) বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন শিক্ষাভূমি আড়াইহাজারে দ্বীনি শিক্ষা, মানবিক সেবা ও সামাজিক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ছাত্র ও আলেম-উলামার সমন্বয়ে এই সংগঠন গঠিত হয়েছে।
(খ) সামাজিক ন্যায় ও মানবিক সহায়তা রাষ্ট্রের বিকাশে অপরিহার্য; লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার এ ক্ষেত্রে বরকতময় ভাগীদার হতে চায়।


অধ্যায়-৩ : লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার একটি অরাজনৈতিক, দ্বীনি, সেবামূলক ও আদর্শিক সংগঠন। এ সংগঠনের মৌলিক লক্ষ্য হলো দ্বীনের সঠিক প্রচার, সমাজে ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং ছাত্র, আলেম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সুশৃঙ্খলতা গড়ে তোলা। একটি বেদআতমুক্ত, কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক আদর্শ ইসলামিক মডেল থানা গঠনের লক্ষ্যে নি¤েœাক্ত উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়ন করা হবে:

ধারা ১: ছাত্র ও তরুণ প্রজন্মের উন্নয়ন
قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا
“তোমরা নিজেদের এবং নিজেদের পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে রক্ষা করো” সূরা তাহরীম: ৬
১. “লাজনাতুত ত্বোলাবা” শিরোনামে ছাত্রদের মাঝে চিন্তাশীল, দক্ষ ও দ্বীনী নেতৃত্ব গঠনের কার্যক্রম পরিচালনা।
২. মেধাবী ছাত্রদের বৃত্তি, পুরস্কার ও উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে সহায়তা।
৩. বোর্ড পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারীদের তালিকা ও সম্মাননা প্রদান।
৪. স্কুল ও মাদরাসা পর্যায়ে কুরআন শিক্ষাসহ ইসলামিক প্রতিযোগিতা।
৫. তরুণদের নৈতিক উন্নয়নে ধারাবাহিক দাওয়াতি মেহনত ও সচেতনতা প্রোগ্রাম।

ধারা ২: শিক্ষক, ইমাম ও আলেমদের প্রশিক্ষণ ও মানোন্নয়ন
يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ
“আল্লাহ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত, তাদের মর্যাদা উচ্চ করবেন” সূরা মুজাদালা: ১১
১. মক্তব শিক্ষকদের জন্য নূরানী ও তাজভীদ প্রশিক্ষণ।
২. হিফজ বিভাগের হাফেজদের জন্য বিশেষ হুফ্ফাজ প্রশিক্ষণ।
৩. কিতাব বিভাগের শিক্ষকদের জন্য নাহু-সরফ, ফিকহ ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ।
৪. ইমামদের জন্য যুগোপযোগী ও দাওয়াতি প্রশিক্ষণ।
৫. আধুনিক স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও আইটি প্রশিক্ষণ

ধারা ৩: আলেম ও গুণীজনদের সম্মান ও স্মরণ
وَقُل رَّبِّ زِدْنِي عِلْمًا
“আর বলো: হে আমার রব! আমাকে জ্ঞান বৃদ্ধি দাও” সূরা ত্বহা: ১১৪
১. মরহুম ওলামায়ে কেরামের স্মরণে স্মারক গ্রন্থ, জীবনচরিত ও কীর্তি সংকলন।
২. বরেণ্য আলেম, শিক্ষক ও সমাজসেবীদের অবদানভিত্তিক গ্রন্থ প্রকাশ।
৩. সকল গুণীজনদের সম্মান ও উৎসাহ।
ধারা ৪: ইসলাম প্রচার ও দ্বীনি সচেতনতা
ادْعُ إِلِىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ
“আপনার প্রতিপালকের পথে আহ্বান করুন প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে” সূরা নাহল: ১২৫
১. সাধারণ জনগণের জন্য বয়স্ক কুরআন শিক্ষা ও নামাজ প্রশিক্ষণ।
২. সংগঠনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে ক্যালেন্ডার, ইসলামিক পুস্তক, লিফলেট ইত্যাদি দাওয়াতি সামগ্রী বিতরণ।
৩. সামাজিক অবক্ষয় রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি।
৪. আন্তঃসংগঠন ও ইসলামী ও মানবিক মূল্যবোধে ঐক্য গঠন।
ধারা ৫: সমাজসেবা ও মানবিক সহায়তা
مَن لَمْ يَهْتَمَّ بِأَمْرِ الْمُسْلِمِينَ فَلَيْسَ مِنْهُمْ
“যে ব্যক্তি মুসলমানদের ব্যাপারে চিন্তিত নয়, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়” মুসলিম শরীফ
১. অসহায় ও দারিদ্র্যপীড়িত আলেমদের আর্থিক সাহায্য ও পুনর্বাসন।
২. দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রদের শিক্ষা সহায়তা।
৩. সদ্য ফারেগ হওয়া আলেমদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন।
৪. নবীন আলেমদের খেদমত ও কর্মসংস্থান গঠন।
৫. দুর্যোগকালে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম।
ধারা ৬: আদর্শ ইসলামি থানা গঠনে ঐক্য ও পরিকল্পনা
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ
“নিশ্চয়ই মুসলিমগণ পরস্পর ভাই ভাই” সূরা হুজুরাত: ১০
১. থানার সকল শ্রেণির জ্ঞানী, অভিজ্ঞ ও দ্বীনদারদের সমন্বয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আড়াইহাজার থানাকে আদর্শ ইসলামিক মডেল থানায় রূপান্তরের পরিকল্পনা।
মুদ্দা কথা-
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
“আমি জ্বিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি শুধুমাত্র আমার ইবাদতের জন্য” সূরা যারিয়াত: ৫৬
উল্লিখিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়, শান্তি, তাকওয়া, সহমর্মিতা ও ইসলামি সমাজ কায়েমের মাধ্যমে ইহকালীণ শান্তি ও আখেরাতে নাজাত অর্জনই “লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার”-এর মূল উদ্দেশ্য।

অধ্যায় ৪: সদস্যপদ ও সদস্য নিয়মাবলি
সদস্যপদ ও সদস্য নিয়মাবলি”-কে গঠনতান্ত্রিক রীতি অনুসারে ধারা ও উপধারায় সাজিয়ে, মার্জিত ও পরিপূর্ণ ভাষায় উপস্থাপন করা হলো। পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক কুরআন-হাদীসের আলোকে কিছু উদ্ধৃতি ও সংযুক্ত করা হয়েছে।
وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا
“তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং বিভক্ত হয়ো না।”
সূরা আল-ইমরান (৩:১০৩)
ধারা ১ : সদস্যপদের যোগ্যতা
যে কোনো আলেম নি¤েœাক্ত শর্ত পূরণ করলে “লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার” এর সদস্য হতে পারবেন:
১. তিনি আড়াইহাজার উপজেলার স্থায়ী বা জন্মসূত্রে বাসিন্দা হতে হবে।
২ ইসলামি জীবনদর্শনে বিশ্বাসী, সুন্নাহভিত্তিক জীবনযাপনকারী হতে হবে।
৩ কোনো ইসলামবিরোধী, বেদআতপূর্ণ ও সমাজবিরোধী কর্মকা-ে জড়িত থাকতে পারবে না।
৪: সংগঠনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে।
৫. আকিদাগত সমস্যা/জাগতিক রাজনৈতিক দলের কোনো কমিটিতে থাকতে যাবে না।
ধারা ২: সদস্যভুক্তি প্রক্রিয়া
১। নির্ধারিত ভর্তি ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে সংগঠনের অফিসে জমা দিতে হবে।
২। অন্তত ২ জন বিদ্যমান সদস্যের সুপারিশ/তাজভীক আবশ্যক।
৩। নতুন সদস্যদের নাম সদস্য রেজিস্টার খাতা ও ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে।
ধারা ৩ : সদস্যদের শ্রেণিবিন্যাস
১। সাধারণ সদস্যÑ সংগঠনের পূর্ণ সদস্য যাঁরা ইউনিয়ন পর্যায় ভোটাধিকার ও অন্যান্য অধিকার ভোগ করবেন।
২। সহযোগী সদস্যÑ যাঁরা পূর্ণ সদস্য নন, তবে সংগঠনের কার্যক্রমে নির্দিষ্ট খাতে অংশগ্রহণ বা সহায়তা করবেন।
৩। সম্মানিত সদস্যÑ বিশেষ অবদান রাখা গুণী আলেম, পেশাজীবী বা বয়োজ্যেষ্ঠ
দ্বীনদার ব্যক্তিত্ব, যাঁরা উপদেষ্টা পরিষদে স্থান পাবেন।
ধারা ৪ : চাঁদা ও আর্থিক দায়িত্ব
১। মাসিক বা বাৎসরিক চাঁদার পরিমাণ কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্ধারণ করবে, যা এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
২। চাঁদা পরিশোধ সদস্যের নৈতিক দায়িত্ব এবং সংগঠনের ব্যয় নির্বাহের অন্যতম উৎস।
৩। চাঁদা আদায়ের হিসাব ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অডিট কমিটির তত্ত্বাবধানে নিরীক্ষণ হবে।
ধারা ৫ : সদস্যদের অধিকার
১। ভোট প্রদান ও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার।
২। গঠনতান্ত্রিক সীমার মাঝে পরামর্শ ও মতামত প্রদান করার সুযোগ।
৩। প্রশিক্ষণ, দাওয়াতি কার্যক্রম ও অন্যান্য সুবিধায় অংশগ্রহণের অধিকার।
৪। জরুরি বা বিশেষ সভায় উপস্থিত থেকে মত প্রকাশের সুযোগ।
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ المؤمنُ للمؤمنِ كالبنيانِ يشدُّ بعضُه بعضًا”
“একজন মুমিন অন্য মুমিনের জন্য একটি দালানের মতো, এক অংশ আরেক অংশকে দৃঢ় করে।” সহীহ বুখারী, হাদীস: ৪৮১

ধারা ৬ : সদস্যপদ বাতিল ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
নি¤েœাক্ত কারণে কোনো সদস্যের সদস্যপদ বাতিল করা যেতে পারে:
১। শরীয়তবিরোধী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়া।
২। সংগঠনের আদর্শ, ভাবমূর্তি বা শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী আচরণ করা।
৩। ছয় (৬) মাসের অধিক সময় সদস্য চাঁদা অনাদায় থাকা।
৪। সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে অশালীন ও বিদ্বেষমূলক আচরণ করা।
৫। সদস্যপদ বাতিলের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ন্যূনতম একবার লিখিত নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।
৬। সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট শাখার কার্যনির্বাহী পরিষদ, প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় অনুমোদন নিতে পারবে।

✅ উপসংহার: লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার বিশ্বাস করে যে একটি সংগঠনের প্রাণ হলো তার সদস্যবৃন্দ। তাদের দ্বীনি মেহনত, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সুসংগঠিত, সুনিয়ন্ত্রিত ও পরিশুদ্ধ সমাজ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। সুতরাং সদস্যদের নির্বাচন, অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে শরীয়াহ ও শৃঙ্খলার সমন্বয় অতীব জরুরি।

অধ্যায় ৫: সাংগঠনিক কাঠামো
লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার-এর গঠনমূলক কার্যক্রম সুষ্ঠু ও ধারাবাহিকভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে সংগঠনের কাঠামো নিচের স্তরসমূহে বিন্যস্ত করা হয়েছে।
ধারা- ১. ওয়ার্ড কমিটি
بَلْدَةٌ طَيِّبَةٌ وَرَبٌّ غَفُورٌ “এটি একটি উত্তম জনপদ এবং ক্ষমাশীল প্রভু।” সূরা সাবা: ১৫
সংগঠনের মূল ভিত্তি ও কার্যক্রমের প্রাথমিক কেন্দ্রবিন্দু।
প্রতিটি ওয়ার্ডে ইসলামী আদর্শে সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যে দাওয়াতি, সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা।

ধারা: ২. ইউনিয়ন কমিটি
وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا
“আমি তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরকে চিনতে পারো।” সূরা হুজুরাত: ১৩
ওয়ার্ড কমিটিগুলোর সমন্বয়কারী স্তর: একাধিক ওয়ার্ড কমিটিকে ইসলামি চিন্তাধারা ও সংগঠনের মূলনীতির আলোকে নেতৃত্ব, দিক নির্দেশনা ও সহযোগিতা প্রদান করে।

ধারা: ৩. উপজেলা কমিটি
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ
“তোমরা পরস্পরকে সহায়তা করো সৎকাজ ও তাকওয়ায়।” সূরা মায়িদা: ২
ইউনিয়ন কমিটিগুলোর তত্ত্বাবধায়ক ও সাংগঠনিক দায়িত্বশীল স্তর।
উপজেলা পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রমের সমন্বয়, সম্প্রসারণ ও মূল্যায়নের দায়িত্ব পালন করে
ধারা: ৪. উপদেষ্টা পরিষদ
وَأَمْرُهُمْ شُورَىٰ بَيْنَهُمْ
“তাদের সব কাজ পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়।” সূরা শুরা: ৩৮
অভিজ্ঞ ও প্রবীন আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত পরামর্শদাতা পরিষদ। সংগঠনের নীতিনির্ধারণ, পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করে।
✅ দুই শ্রেনীর পরামর্শ পরিষদ থাকবে:
ক) সম্মানিত অতিথি উপদেষ্টা – বিশেষ অনুষ্ঠানে অবদান রাখবেন ও পরামর্শ দিবেন।
খ) কার্যকরী উপদেষ্টা সদস্য – সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী ও পরামর্শ দাতা এবংসংগঠন নিয়ন্ত্রনে কার্যকরী ভূমিকা রাখবেন।

ধারা: ৫. নির্বাচন কমিশন
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَىٰ أَهْلِهَا
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দেন, আমানত তার যথাযথ প্রাপকের কাছে পৌঁছে দিতে।” সূরা নিসা: ৫৮
সংগঠনের সাংবিধানিক চর্চা সুশৃঙ্খল রাখতে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়।
নির্ধারিত মেয়াদ শেষে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে।

ধারা: ৬. অডিট কমিটি
كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ
“তোমরা সবাই দায়িত্বশীল, এবং তোমরা সবাই দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।”
(সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
সংগঠনের আর্থিক লেনদেন ও হিসাবরক্ষণে স্বচ্ছতা ও জবাব দিহিতা নিশ্চিত করে।
প্রতি বছর বার্ষিক অডিট রিপোর্টের মাধ্যমে সদস্যদের কাছে রিপোর্ট পেশ করে।
✅ উপসংহার:
إِنَّ اللّهَ يُحِبُّ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِهِ صَفّاً كَأَنَّهُم بُنْيَانٌ مَّرْصُوصٌ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন, যারা তাঁর পথে সংগ্রাম করে এক কাতারে, যেন তারা একটি সুনির্মিত প্রাচীর।” সূরা আস-সাফ: ৪
এই কাঠামোটি সংগঠনের শৃঙ্খলা, ঐক্য ও কার্যকারিতাকে সুদৃঢ় করে এবং কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক আদর্শে একটি সুসংগঠিত, গতিশীল ও মানবিক সংগঠন গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
অধ্যায়-৬: উপদেষ্টা পরিষদ
ধারা ১: সংজ্ঞা ও পরিচিতি
উপদেষ্টা পরিষদ হল লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার-এর সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ও পরামর্শমূলক স্তর।
এ পরিষদ সংগঠনের দিকনির্দেশনা, নীতিমালা, সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ধারা ২: সদস্যদের বৈশিষ্ট্য
১. সদস্যগণ হবেন দীনের জ্ঞান ও তাকওয়া সম্পন্ন, বিচক্ষণ, প্রজ্ঞাবান, সমাজ সচেতন এবং সংগঠনের আদর্শ ও উদ্দেশ্যর প্রতি অনুগত।
২. তারা দ্বীনের স্বার্থে কাজ করবেন, রাজনৈতিক বা দলীয় স্বার্থে নয়।
إن أكرمكم عند الله أتقاكم
“নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত সেই ব্যক্তি যে সর্বাধিক তাকওয়াধারী।” (সূরা হুজুরাত: ১৩)

ধারা ৩: গঠন ও সদস্য পদ
১. সদস্য মনোনয়ন হবে জ্যেষ্ঠ আলেম, প্রাক্তন সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকদের মধ্য থেকে।
২. সদস্যদের হতে হবে সদাচারী, দ্বীনদার, আমানতদার।
৩. তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রভাবিত না হয়ে ঈমান ও উলামা উম্মাহর কল্যাণে কাজ করবেন।

ধারা ৪: দায়িত্ব ও কার্যাবলি
১. সংগঠনের নীতিমালা নির্ধারণ ও পরামর্শ প্রদান।
২. নির্বাহী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অনুমোদন বা সংশোধনের সুপারিশ।
৩. বিরোধ ও জটিলতার সমাধান।
৪. জরুরি পরিস্থিতিতে নির্বাহী কমিটির স্থগিতাদেশ বা স্থলাভিষেকের অনুমোদন।
৫. সংবিধান সংশোধনে মতামত প্রদান।
৬. নির্বাচন কমিশন গঠন ও তদারকি।
৭. বার্ষিক অডিট, যাকাত ও ফান্ড ব্যবস্থাপনায় পর্যালোচনা।
قال رسول الله ﷺ الدين النصيحة
“দীন হল সদুপদেশ।” (সহীহ মুসলিম: ৫৫)
ধারা ৫: ক্ষমতা ও অধিকার
১. উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশ থাকবে অগ্রাধিকারযোগ্য।
২. শরিয়ত বা সংগঠনের স্বার্থ পরিপন্থী হলে নির্বাহী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারবে।
৩. প্রয়োজনে বিশেষ বৈঠক আহ্বান ও নির্বাহী কমিটিকে অংশগ্রহণে নির্দেশ দিতে পারবে।
৪. সদস্যদের আচরণবিধি লঙ্ঘনে তদন্তের সুপারিশ করবে।
ধারা ৬: বৈঠক ও সিদ্ধান্ত পদ্ধতি
১. বছরে অন্তত ২ বার বৈঠক হবে।
২. জরুরিভাবে যেকোনো সময় আহ্বান করা যাবে।
৩. সিদ্ধান্ত হবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে।
৪. সব সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
ধারা ৭: মনোনয়ন ও পদচ্যুতি
১. মনোনয়নে প্রতিষ্ঠাতা ও জ্যেষ্ঠদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ।
২. দায়িত্ব অবহেলা, সম্মানহানি বা অনৈতিকতা প্রমাণিত হলে, সদস্যপদ বাতিলযোগ্য।
৩. স্বেচ্ছায় পদত্যাগ গ্রহণযোগ্য।
ধারা ৮: নীতিমালা ও শৃঙ্খলা
১. সদস্যদের মধ্যে গোপনীয়তা, পরামর্শমূলক আচরণ ও ইসলামি চরিত্র বজায় রাখতে হবে।
২. মতভেদ হলেও তা আলেমসুলভ, শালীন ও সম্মানজনকভাবে পেশ করতে হবে।
৩. প্রকাশ্যে অপমান বা অশালীনতা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
৪. তাকওয়া, ইখলাস ও খিলাফতি দৃষ্টিভঙ্গিতে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
✅ উপসংহার : উপদেষ্টা পরিষদ একটি ইসলামী নেতৃত্ব ও শূরা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, যা সংগঠনের মূলনীতি, স্থিতিশীলতা, সুবিচার ও শরিয়াহভিত্তিক পরিচালনায় মুখ্য ভূমিকা পালন করে, এই পরিষদই ভবিষ্যতের পথনির্দেশক বাতিঘরÑ ইনশাআল্লাহ।

অধ্যায়-৭: নির্বাচন কমিশন
ইসলামি ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচনের একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ কাঠামো
ধারা ১: সংজ্ঞা
১. নির্বাচন কমিশন হলো সংগঠনের নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ, শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল স্বতন্ত্র কমিটি, যা নির্বাহী কমিটির গঠন ও পুনর্গঠনের জন্য নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার পূর্ণ ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব রাখে।
২. এই কমিশন শুধু নির্বাচনের সময় সক্রিয় থাকবে এবং নির্বাচনী কাজ সম্পন্ন হলে বিলুপ্ত ধরা হবে।
৩. উপদেষ্টা পরিষদের সম্মানিত সদস্যগনই নির্বাচন কমিশন হওয়ায় অধিকার রাখবে।
✅ সংক্ষিপ্ত লক্ষ্য: “আদিল (ন্যায়বিচার), শূরা (পরামর্শ), ও আমানত (বিশ্বাসযোগ্যতা)Ñ এই তিনটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ইসলামি নেতৃত্ব নির্বাচন বাস্তবায়ন করা।”
অধ্যায়- ৮: অডিট কমিটি
গঠন: ইসলামী ন্যায়পরায়ণতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে আর্থিক নিরীক্ষা কাঠামো।
ধারা ১: সংজ্ঞা ও প্রেক্ষাপট
১. অডিট কমিটির মূল কাজ হলো সংগঠনের যাবতীয় আর্থিক লেনদেন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের হিসাব যাচাই করে নিরপেক্ষ রিপোর্ট প্রদান করা।
وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ
“তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করো না।” (সূরা আল-বাকারা: ১৮৮)
২. কমিটি হবে সর্বনি¤œ ৩ এবং সর্বোচ্চ ৫ সদস্য বিশিষ্ট।
৩. সদস্যদের মধ্যে কমপক্ষে ১ জন আর্থিক বা হিসাব বিদ্যায় অভিজ্ঞ হতে হবে।
ধারা ২: দায়িত্ব ও কার্যাবলি
১. কোষাধ্যক্ষ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত আয়-ব্যয়ের হিসাব যাচাই।
২. হিসাবপত্র, রশিদ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, চেক রেজিস্টার ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ।
৩. বার্ষিক নিরীক্ষা রিপোর্ট প্রস্তুত করে নির্বাহী কমিটিকে পেশ করা।
৪. অনিয়ম, অপচয় বা অস্বচ্ছতা ও অনৈতিকতা থাকলে তা লিখিত ভাবে জানানো।
৫. প্রয়োজনে বিশেষ নিরীক্ষা করা।
৬. কোষাধ্যক্ষ অডিটের পূর্বে সব হিসাব উপস্থাপন করতে বাধ্য।
৭. কমিটি প্রয়োজনে প্রাসঙ্গিক দলিল চাওয়ার অধিকার রাখে।
৮. গোপনীয়তা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।
৯. অভ্যন্তরীণ বিরোধ উপদেষ্টা কমিটির মাধ্যমে সমাধানযোগ্য।
১০. সমস্ত আর্থিক রেকর্ড কমপক্ষে ১৫ বছর সংরক্ষণের পরামর্শ।
অধ্যায় ৯: কমিটি গঠন, ভোটাধিকার ও নির্বাচন
গঠন: এই অধ্যায়ে সংগঠনের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন এবং থানা পর্যায়ের মূল কমিটি, অডিট ও নির্বাচন কমিটি, ভোটাধিকার, এবং উপদেষ্টা পরিষদ গঠন, ক্ষমতা ও নির্বাচনী পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই কাঠামোর মাধ্যমে সংগঠন সুসংগঠিত, পরিকল্পিত ও হেদায়েত ভিত্তিক ভাবে পরিচালিত হবে, ইনশাআল্লাহ।

ধারা ১: কমিটির শ্রেণিবিন্যাস
সংগঠনের কাঠামো ছয়টি স্তরে গঠিত। প্রতিটি স্তর নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব নিয়ে পরিচালিত হবে।
১. ওয়ার্ড মূল কমিটি- সংগঠনের ভিত্তি পর্যায়ের কার্যকরী ইউনিট
২. ইউনিয়ন মূল কমিটি- স্থানীয় কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কেন্দ্র
৩. থানা মূল কমিটি- উপজেলা বা থানাভিত্তিক সমন্বয়কারী ইউনিট
৪. উপদেষ্টা পরিষদ- সর্বোচ্চ পরামর্শদাতা ও তদারকি কমিটি
৫. অডিট কমিটি – আর্থিক স্বচ্ছতা ও হিসাব তদারকির ইউনিট
৬. নির্বাচন কমিটি – নির্বাচন পরিচালনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ইউনিট
ধারা ২: ওয়ার্ড মূল কমিটি
গঠন: প্রত্যেক ওয়ার্ডে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১১ সদস্যের একটি কমিটি থাকবে।
কমিটির পদসমূহ:
১. সভাপতি
২. সাধারণ সম্পাদক
৩. সাংগঠনিক সম্পাদক
৪. অর্থ সম্পাদক
৫. প্রচার সম্পাদক
৬. সদস্য
ধারা ৪: নির্বাচন উপকমিটি
গঠন: ওয়ার্ডে ৫ সদস্যের একটি নির্বাচন উপকমিটি গঠিত হবে:
ইউনিয়ন কমিটি থেকে: ২ জন
থানা কমিটি থেকে: ৩ জন
ভোটাধিকার: ওয়ার্ডের সব নিবন্ধিত সদস্য ভোট দিতে পারবেন। তবে নির্বাচন উপকমিটির সদস্যরা ভোট দিতে পারবেন না, কারণ তাঁদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি।
ধারা ৫: ইউনিয়ন মূল কমিটি
গঠন: ইউনিয়ন পর্যায়ে সংগঠনের প্রশাসনিক ও দাওয়াতি কাজ পরিচালনার জন্য ৩১ সদস্যের একটি কমিটি থাকবে।
মূল ৫টি পদ:
১. সভাপতি
২. সাধারণ সম্পাদক
৩. সাংগঠনিক সম্পাদক
৪. অর্থ সম্পাদক
৫. প্রচার সম্পাদক
এই ৫ জনের মাধ্যমে বাকি সদস্যরা নির্বাচিত হবেন।
ধারা ৭: নির্বাচন উপকমিটি
গঠন: ৫ সদস্যের উপকমিটি হবে:
থানা কমিটি থেকে: ৩ জন
উক্ত ইউনিয়ন উপদেষ্টা থেকে ২জন।
ভোটাধিকার: ৯টি ওয়ার্ডের প্রত্যেকটি থেকে ৫ জন করে মোট ৪৫ জন ভোটার ভোট দেবেন।
ধারা ৮: থানা মূল কমিটি
গঠন: থানা বা উপজেলা পর্যায়ে কমপক্ষে ৫১ সদস্যের মূল কমিটি থাকবে।
মূল ৫টি পদ:
১. সভাপতি
২. সাধারণ সম্পাদক
৩. সাংগঠনিক সম্পাদক
৪. অর্থ সম্পাদক
৫. প্রচার সম্পাদক
এই ৫ জনের মাধ্যমে বাকি সদস্যরা নির্বাচিত হবেন।
ধারা ৯: অডিট কমিটি
গঠন: থানা কমিটি থেকে: ২ জন
ধারা ১০: নির্বাচন কমিটি
গঠন: ৫ সদস্যের কমিটি:
উপদেষ্টা পরিষদ থেকে: কমপক্ষে ৩ জন
ভোটাধিকার: প্রত্যেক ইউনিয়ন ও পৌরসভা কমিটি থেকে ৫ জন করে মোট ৬০ জন ভোট দেবেন।
নির্বাচন উপকমিটির সদস্যরা ভোট দিতে পারবেন না।
ধারা ১১: উপদেষ্টা পরিষদ
উপদেষ্টা পরিষদ সংগঠনের শৃঙ্খলা, নীতিনির্ধারণ ও কার্যক্রমে গাইডলাইন প্রদান করবে।
উপদেষ্টা পরিষদ দুই ভাগে বিভক্ত:
১. সম্মানিত অতিথি উপদেষ্টা পরিষদ:
এখানে প্রবীণ আলেম, দাতা ও শুভাকাঙ্খীরা থাকবেন। সদস্য সংখ্যা নির্ধারিত নয়। তাঁরা নির্বাহী কাজের সাথে যুক্ত থাকবেন না, তবে আজীবন “সম্মানিত উপদেষ্টা সদস্য” হিসেবে বিবেচিত হবেন।
২. কার্যকরী উপদেষ্টা পরিষদ:
সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ ও কমিটি ও উপকমিটিতে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখবেন।
অধ্যায় ১০: কমিটির গঠনতান্ত্রিক কাঠামো ও স্তরভিত্তিক ক্ষমতার সম্পর্ক
ধারা ১: উপদেষ্টা কমিটি
১. সংজ্ঞা: উপদেষ্টা কমিটি হলো সংগঠনের অভিজ্ঞ, জ্ঞানী ও মুরুব্বী আলেম সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি শীর্ষ পর্যায়ের পরামর্শমূলক ও তদারকি কমিটি।

২. ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব:
(ক) সংগঠনের নীতি, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রাখে।
(খ) সকল স্তরের কমিটির কার্যক্রম তদারকি করতে পারে।
(গ) প্রয়োজনে যেকোনো কমিটিকে সংশোধন বা সদস্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
ধারা ২: থানা কার্যকরী কমিটি
১. সংজ্ঞা: থানা পর্যায়ে সংগঠনের মূল বাস্তবায়নকারী ও নির্দেশনাদানকারী একটি কেন্দ্রীয় কমিটি।
২. ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব:
১. ইউনিয়ন কমিটির উপর প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ।
✅ বিশৃঙ্খল অবস্থায়:
(ক) কমিটি বিলুপ্ত
(খ) আংশিক বা পূর্ণ পুনর্গঠন
(গ) সদস্য বা পদ পরিবর্তন
ধারা ৩: ইউনিয়ন কার্যকরী কমিটি
১ সংজ্ঞা: প্রতিটি ইউনিয়নের আওতাভুক্ত বাস্তবায়ন কমিটি।
২ নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধান: ক. থানা কমিটির অধীন
খ. প্রয়োজনে বিলুপ্তি, পুনর্গঠন, পরিবর্তন করা যায়
ধারা ৪: ওয়ার্ড কমিটি
১ সংজ্ঞা: প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডভিত্তিক স্থানীয় কমিটি।
২ দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব:
১. সদস্য সংগ্রহ, দাওয়াতি, সাংগঠনিক কাজ
২. ইউনিয়ন নির্বাচনে ভোটাধিকার
৩. স্থানীয় সমস্যা সমাধানে রিপোর্টিং
৩ নিয়ন্ত্রণ: ইউনিয়ন কমিটির অধীনস্থ, তবে প্রয়োজন অনুযায়ী তত্ত্বাবধানযোগ্য।
অধ্যায় ১১: পদসমূহ, সংজ্ঞা ও দায়িত্ব
ধারা ১ : পদসমূহের গঠনতান্ত্রিক ধারাবাহিক সিরিয়াল ও দায়িত্ব
১. সভাপতি
২. সিনিয়র সহ সভাপতি
৩. সহ-সভাপতি
৪. সাধারণ সম্পাদক
৫. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
৬. সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
৭. সাংগঠনিক সম্পাদক
৮. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক
৯. অর্থ সম্পাদক
১০. সহ-অর্থ সম্পাদক
১১. প্রচার সম্পাদক
১২. সহ প্রচার সম্পাদক
১৩. দপ্তর সম্পাদক
১৪. সহ দপ্তর সম্পাদক
১৫. শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক
১৬. সহ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক
১৭. আইন বিষয়ক সম্পাদক
১৮. সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক
১৯. গবেষণা, প্রকাশনা সম্পাদক
২০. পরিকল্পনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পাদ
২১. দাওয়াহ সম্পাদক
২২. সহ দাওয়াত সম্পাদক
২৩. সাংস্কৃতিক সম্পাদক
২৪. সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক
২৫. ত্রাণ সম্পাদক
২৬. সহ ত্রাণ সম্পাদক
২৭. ছাত্র সম্পাদক
২৮. সহ ছাত্র সম্পাদক
ধারা ২: সভাপতি
১. সংজ্ঞা ও পরিচিতি
সভাপতি হলেন লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার-এর সর্বোচ্চ নির্বাহী কর্মকর্তা, যিনি সংগঠনের নীতি-আদর্শ অনুযায়ী নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং কার্যনির্বাহী পরিষদকে সঠিকভাবে পরিচালনা করেন।
তিনি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ প্রতিনিধিত্ব করেন এবং সংগঠনের সম্মান, মর্যাদা ও আদর্শ রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন।
২. যোগ্যতা
দাওরায়ে হাদীস পাস এবং ইসলামি জ্ঞান, তাকওয়া ও নেতৃত্বগুণে সমৃদ্ধ হতে হবে।
সংগঠনের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ, গ্রহণযোগ্য, ধার্মিক, চরিত্রবান এবং অভিজ্ঞ হতে হবে।
কমপক্ষে ৫ বছরের সদস্যপদ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে (প্রয়োজনে শর্ত শিথিলযোগ্য)।
📖 إِذَا وُسِّدَ الْأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ
“যখন দায়িত্ব এমন ব্যক্তির হাতে অর্পণ করা হয়, যে তার উপযুক্ত নয়, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করো।” সহীহ বুখারী (হাদীস: ৫৯৫৫)
৩. দায়িত্ব ও কর্তব্য
১. কার্যনির্বাহী সভায় সভাপতিত্ব করা।
২. ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সকল কর্মকা-ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা।
৩. পরামর্শের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া।
৪. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
৫. উপদেষ্টা কমিটি ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করা।
৬. অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিরসনে মধ্যস্থতা করা ও পরামর্শ নেওয়া।
৭. বার্ষিক সভা, ফান্ড, অডিট রিপোর্ট অনুমোদন সভায় সভাপতিত্ব করা।
৮. দাওয়াতি ও সামাজিক কাজে নেতৃত্ব প্রদান ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
৪. ক্ষমতা
১. সভাপতির অনুমতি ছাড়া কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না।
২. সাধারণ সম্পাদকের প্রস্তাব অনুমোদন বা বাতিল করার অধিকার থাকবে।
৩. জরুরি পরিস্থিতিতে স্বতন্ত্রভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন, তবে পরে নির্বাহী সভায় উপস্থাপন করবেন।
৪. উপদেষ্টা কমিটির মাধ্যমে সাধারণ সভা আহ্বান করতে পারবেন।
৫. সংগঠনের সব স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারবেন।
৫. মেয়াদ
১ সভাপতির মেয়াদ ৩ (তিন) বছর।
২ সর্বোচ্চ পরপর ২ মেয়াদ (৬ বছর) পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা যাবে।
৩ পদত্যাগ, মৃত্যু বা অসুস্থতায় পদ শূন্য হলে উপদেষ্টা ও নির্বাহী কমিটির পরামর্শে নির্বাচন হবে।
৬. অপসারণ ও পদচ্যুতি
১. ইসলামি আদর্শ, সংবিধান বা নৈতিকতা পরিপন্থী কর্মকা-ে জড়ালে, উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশে সাধারণ সভার ২/৩ ভোটে অপসারণ করা যাবে।
২. টানা ৩টি সভায় অনুপস্থিত থাকলে এবং উপযুক্ত কারণ না থাকলে পদচ্যুতি ঘটবে।
৩. পদত্যাগ করলে তা লিখিতভাবে উপদেষ্টা কমিটির মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য হতে হবে।
৭. আচরণবিধি ও ইসলামি মূল্যবোধ
১. সভাপতি হবেন বিনয়ী, ধৈর্যশীল, দ্বীনদার ও হিকমহ সম্পন্ন।
২. শরিয়াহর আলোকে দলমত নয়, বরং ইনসাফপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
৩. সকল সদস্যকে সম্মান দিবেন, কাউকে হেয় বা বঞ্চিত করবেন না।
৪. আল্লাহভীতির সঙ্গে আখিরাতমুখী নেতৃত্ব প্রদান করবেন।
مَنْ وَلِيَ مِنْ أَمْرِ الْمُسْلِمِينَ شَيْئًا، ثُمَّ لَمْ يُحِطْهُمْ بِنَصِيحَةٍ، لَمْ يَدْخُلْ مَعَهُمُ الْجَنَّةَ
“যে ব্যক্তি মুসলমানদের কোনো বিষয়ে নেতৃত্ব দেয়, অথচ আন্তরিক উপদেশ ও কল্যাণ করে না—সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” সহীহ মুসলিম (হাদীস: ১৪২)
✅ উপসংহার:
সভাপতি হলেন সংগঠনের আদর্শ, ঐক্য ও শৃঙ্খলার রাহবার। তিনি ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী, সুদূরদর্শী নেতা। তার নেতৃত্বে লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার ইনশাআল্লাহ একটি শক্তিশালী, আদর্শ ও ইসলামভিত্তিক সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
ধারা ৩: সিনিয়র সহ-সভাপতি
১. সংজ্ঞা ও পরিচিতি
সিনিয়র সহ-সভাপতি হলেন একজন সহকারী শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, যিনি সভাপতির অনুপস্থিতিতে বা সভাপতির নির্দেশে সংগঠনের সাধারণ প্রশাসনিক কার্যাবলি পরিচালনা
করেন এবং বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে সভাপতিকে সহযোগিতা করেন।
২. সহযোগিতা ও সমন্বয়
সিনিয়র সহ-সভাপতির প্রধান দায়িত্ব হলো সভাপতিকে সহযোগিতা করা এবং নির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখা। এর আওতায় তাঁর করণীয়গুলো হলো:
১. সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ নির্বাহী কমিটির সকল সদস্যদের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখা।
২. সংগঠনের যেকোনো প্রকল্প, ইভেন্ট বা কার্যক্রমে নেতৃত্ব ও তদারকির ভূমিকা পালন করা।
৩. স্থানীয় শাখা, মাদরাসা, সামাজিক সংগঠন, দাতা সদস্য এবং অন্যান্য বাহ্যিক পক্ষের সঙ্গে পারস্পরিক সমন্বয়ে কাজ করা।
৪. সভাপতির নির্দেশ মোতাবেক বিশেষ দায়িত্ব পালন করা এবং প্রয়োজনে প্রতিনিধিত্ব করা।
৫. কোনো বিভাগের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হলে সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম পরিচালনায় নেতৃত্ব প্রদান করা।
✅ উপসংহার: সিনিয়র সহ-সভাপতি হলেন সভাপতি ও কমিটির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন। তিনি নেতৃত্ব, সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সংগঠনের দায়িত্বশীল একজন অংশীদার হিসেবে কাজ করেন। তার নৈতিকতা, আন্তরিকতা ও ইখলাস সংগঠনের শৃঙ্খলা ও অগ্রগতিকে গতিশীল করে তোলবে- ইনশাআল্লাহ
ধারা ৪: সহ-সভাপতি
১. সংজ্ঞা ও পরিচিতি সহ-সভাপতি হলেন একজন সহকারী শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, যিনি সিনিয়র সহ সভাপতির অনুপস্থিতিতে বা সভাপতির নির্দেশে সংগঠনের সাধারণ প্রশাসনিক কার্যাবলি পরিচালনা করেন এবং বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে সভাপতিকে সহযোগিতা করেন।
২. সহযোগিতা ও সমন্বয়
সহ-সভাপতির প্রধান দায়িত্ব হলো সিনিয়র সভাপতিকে সহযোগিতা করা এবং নির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখা। এর আওতায় তাঁর করণীয়গুলো হলো:
১. সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ নির্বাহী কমিটির সকল সদস্যদের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখা।
২. সংগঠনের যেকোনো প্রকল্প, ইভেন্ট বা কার্যক্রমে নেতৃত্ব ও তদারকির ভূমিকা পালন করা।
৩. স্থানীয় শাখা, মাদরাসা, সামাজিক সংগঠন, দাতা সদস্য এবং অন্যান্য বাহ্যিক পক্ষের সঙ্গে পারস্পরিক সমন্বয়ে কাজ করা।
৪. সভাপতির নির্দেশ মোতাবেক বিশেষ দায়িত্ব পালন করা এবং প্রয়োজনে প্রতিনিধিত্ব করা।
৫. কোনো বিভাগের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হলে সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম পরিচালনায় নেতৃত্ব প্রদান করা।
✅ উপসংহার : সহ-সভাপতি হলেন সভাপতি ও কমিটির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন। তিনি নেতৃত্ব, সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সংগঠনের দায়িত্বশীল একজন অংশীদার হিসেবে কাজ করেন। তার নৈতিকতা, আন্তরিকতা ও ইখলাস সংগঠনের শৃঙ্খলা ও অগ্রগতিকে গতিশীল করে তোলবে- ইনশাআল্লাহ

ধারা ৫: সাধারণ সম্পাদক
১. পদপরিচয়
সাধারণ সম্পাদক হবেন লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার-এর একজন নির্বাচিত সদস্য, যিনি সংগঠনের সার্বিক দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা, সভার কার্যবিবরণী সংরক্ষণ, যোগাযোগ রক্ষা এবং কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব পালন করবেন।
২. দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ
১. গঠনতন্ত্র ও কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দাপ্তরিক ও নির্বাহী কাজ পরিচালনা করা।
২. সকল সভার (সাধারণ ও বিশেষ) নোটিশ প্রদান, কার্যবিবরণী প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করা।
৩. সভাপতি ও নির্বাহী পরিষদের সাথে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা।
৪. দলিল, কাগজপত্র, নথিপত্র সংরক্ষণ করা।
৫. সদস্য তালিকা তৈরি ও হালনাগাদ রাখা।
৬. বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরি করে সভাপতির অনুমোদনে সাধারণ সভায় পেশ করা।
৭. ফান্ড সংগ্রহ ও ব্যয় হিসাব হিসাবরক্ষকের সঙ্গে সমন্বয় করে তদারকি করা।
৮. সংগঠনের চিঠিপত্র লেখা, প্রেরণ ও সংরক্ষণ করা।
৯. দাওয়াতি ও সামাজিক কার্যক্রমে নেতৃত্ব ও তদারকি করা।
১০. সভাপতি অনুপস্থিত থাকলে তাঁর অনুমতিক্রমে সাময়িক দায়িত্ব পালন করা (যতক্ষণ না সহ-সভাপতি দায়িত্ব গ্রহণ করেন)।
৩. ক্ষমতা
১. কার্যনির্বাহী পরিষদের অনুমোদনে যে কোনো দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করতে পারবেন।
২. সদস্যদের কাছে তথ্য আহ্বান ও দাপ্তরিক নির্দেশ জারি করতে পারবেন।
৩. জরুরি অবস্থায় সভাপতির পরামর্শক্রমে সীমিত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, যা পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করতে হবে।
৪. মেয়াদ
১. সাধারণ সম্পাদকের মেয়াদ ৩ (তিন) বছর।
২. সর্বোচ্চ পরপর ২ মেয়াদ পর্যন্ত নির্বাচিত হতে পারবেন। তবে সভাপতি ও সহ সভাপতি পদে মনোনয়ন গ্রহণযোগ্য।
৩. পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে বহাল থাকবেন।
৪. গুরুতর অভিযোগে কার্যনির্বাহী পরিষদের অধিকাংশ মতামতের ভিত্তিতে অপসারণযোগ্য।
৫. ইসলামি আদর্শ ও শিষ্টাচার (ওংষধসরপ ঊঃযরপং ধহফ ঈড়হফঁপঃ)
১. ইসলামি চরিত্র, আমানতদারি ও তাকওয়ার গুণে গুণান্বিত হতে হবে।
২. কথাবার্তা, সিদ্ধান্ত ও কাজ কুরআন-সুন্নাহর আলোকে হতে হবে।
৩. সদস্যদের সাথে সদাচরণ, ইনসাফ ও পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করবেন।
৪. ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থপরতা ও বিভাজনমূলক কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
📖 وَلَا تَكُنْ لِلْخَائِنِينَ خَصِيمًا
“তুমি যেন কখনো বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষ নেয়া না করো।” সূরা আন-নিসা (৪:১০৫)
✅ উপসংহার: সাধারণ সম্পাদক হলেন সংগঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তিনি সততা, দক্ষতা ও শরিয়াহভিত্তিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে সংগঠনের কাঠামো মজবুত রাখেন। তার ত্যাগ ও আমানতদারিত্বের মধ্য দিয়েই সংগঠনের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত হয় – ইনশাআল্লাহ

ধারা ৬: সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
১. সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন- একজন সহকারী শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, যিনি সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে বা তাঁর নির্দেশে সংগঠনের সাধারণ প্রশাসনিক কার্যাবলি পরিচালনা করেন এবং বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে সাধারণ সম্পাদককে সহযোগিতা করেন।
২. সহযোগিতা ও সমন্বয়
১. সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ নির্বাহী কমিটির সকল সদস্যদের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করা।
২. যেকোনো প্রকল্প, ইভেন্ট বা কার্যক্রমে নেতৃত্ব ও তদারকির ভূমিকা পালন করা।
৩. স্থানীয় শাখা, মাদরাসা, সামাজিক সংগঠন, দাতা সদস্য ও অন্যান্য বাহ্যিক পক্ষের সাথে সমন্বয়ে কাজ করা।
৪. সাধারণ সম্পাদকের দপ্তর বা বিশেষ কার্যক্রমে নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকা।
✅ উপসংহার :
সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন- সাধারণ সম্পাদকের বিশ্বস্ত সহযোগী। তাঁর কর্তব্য সংগঠনের কাজকে গতি দেওয়া, সমন্বয় রক্ষা এবং দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে কাজ সহজ করা। আন্তরিকতা, আখিরাতমুখিতা ও শৃঙ্খলাবোধে তিনি সংগঠনের অগ্রগতিতে অবদান রাখেন – إن شاء الله।
ধারা ৭: যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
১.যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন একজন সহকারী শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, যিনি সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে বা তাঁর নির্দেশে সংগঠনের সাধারণ প্রশাসনিক কার্যাবলি পরিচালনা করেন এবং বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে সাধারণ সম্পাদককে সহযোগিতা করেন।
২. সহযোগিতা ও সমন্বয়
১. সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ নির্বাহী কমিটির সকল সদস্যদের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করা।
২. যেকোনো প্রকল্প, ইভেন্ট বা কার্যক্রমে নেতৃত্ব ও তদারকির ভূমিকা পালন করা।
৩. স্থানীয় শাখা, মাদরাসা, সামাজিক সংগঠন, দাতা সদস্য ও অন্যান্য বাহ্যিক পক্ষের সাথে সমন্বয়ে কাজ করা।
৪. সাধারণ সম্পাদকের দপ্তর বা বিশেষ কার্যক্রমে নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকা।
✅ উপসংহার :
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন সাধারণ সম্পাদকের বিশ্বস্ত সহযোগী। তাঁর কর্তব্য সংগঠনের কাজকে গতি দেওয়া, সমন্বয় রক্ষা এবং দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে কাজ সহজ করা। আন্তরিকতা, আখিরাতমুখিতা ও শৃঙ্খলাবোধে তিনি সংগঠনের অগ্রগতিতে অবদান রাখেন- ইনশাআল্লাহ।

ধারা ৮: অর্থ সম্পাদক
(ক) সংজ্ঞা
অর্থ সম্পাদক হলেন-সংগঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল পদ, যিনি আমানতের ভিত্তিতে সংগঠনের সম্পদ, হিসাব-নিকাশ, বাজেট ও আর্থিক স্বচ্ছতা সংরক্ষণের সার্বিক তত্ত্বাবধান করবেন।
(খ) যোগ্যতা
১. ইসলামি আদর্শে বিশ্বাসী ও আমানতদার হতে হবে।
২. হিসাব-নিকাশ, বাজেট ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ ও সচেতন হতে হবে।
৩. সংগঠনের নিবন্ধিত সদস্য হতে হবে।
৪. কোনো আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি বা অপরাধে জড়িত ছিলেন না এমন হতে হবে।
৫. ধৈর্যশীল, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সৎ আচরণে অভ্যস্ত হতে হবে।
(গ) মূল দায়িত্ব
১. সংগঠনের সকল আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ করা।
২. মাসিক, ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সভায় উপস্থাপন করা।
৩. সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সমন্বয়ে ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করা।
৪. রশিদ, ভাউচার ও চেকের মাধ্যমে সমস্ত লেনদেন সম্পন্ন করা।
৫. ফান্ড কালেকশন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে অডিট কমিটির সহযোগিতা করা।
৬. অনুমোদিত বাজেট অনুযায়ী ব্যয় তত্ত্বাবধান করা।
(ঘ) ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা
১. এককভাবে অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা নেই-কমিটির অনুমোদন আবশ্যক।
২. ব্যাংক লেনদেনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষর প্রয়োজন।
৩. সংগঠনের অর্থ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ গণ্য হবে।
৪. ফান্ড সংরক্ষণ ও ব্যয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।
(ঙ) মেয়াদকাল
১. মেয়াদ ৩ (তিন) বছর নির্ধারিত থাকবে।
২. কমিটির অনুমোদনে পুনঃনির্বাচনযোগ্য।
(চ) অপসারণ ও পদচ্যুতি
নি¤েœাক্ত ক্ষেত্রে অর্থ সম্পাদককে অপসারণ করা যাবে:
১. অর্থ আত্মসাৎ বা আর্থিক দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে।
২. সংগঠনের আদর্শ ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী আচরণে জড়িত হলে।
৩. টানা তিনটি বৈঠকে অনুপস্থিত থেকে দায়িত্বে গাফিলতি করলে।
৪. নির্বাহী কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের লিখিত অভিযোগে।
৫. নিরীক্ষা কমিটির রিপোর্টে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়লে।
৬. অর্থ বিভাগের ফাইলপত্র অফিসে সংরক্ষিত রাখতে হবে।
৭. অনিয়ম দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সভাপতি ও নিরীক্ষা কমিটিকে জানাতে হবে।
✅ উপসংহার : অর্থ সম্পাদক হলেন সংগঠনের আর্থিক ভিত্তির রক্ষক। তাঁর উপর নির্ভর করে সংগঠনের স্বচ্ছতা, বিশ্বস্ততা ও ধারাবাহিকতা। সঠিক হিসাব, নির্ভরযোগ্যতা ও আমানত দারিত্বের মাধ্যমে সংগঠনকে আর্থিকভাবে এগিয়ে নেওয়া-এটাই তার মূল দায়িত্ব।
ধারা ৯: সহ-অর্থ সম্পাদক
১. সংজ্ঞা ও পরিচিতি
সহ-অর্থ সম্পাদক হলেন একজন সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা, যিনি অর্থ সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে বা নির্দেশে দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁকে আর্থিক কাজকর্মে সহায়তা করেন।
২. সহযোগিতা ও সমন্বয়
৩. সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করা।
৪. যেকোনো অর্থনৈতিক প্রকল্প, ইভেন্ট বা কার্যক্রমে নেতৃত্ব ও তদারকি করা।
৫. অর্থ সম্পাদকের দপ্তরের রেকর্ড, নথিপত্র ও রশিদ সংরক্ষণে সহায়তা করা।
৬. ফান্ড কালেকশন কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে রিপোর্ট প্রস্তুতিতে অংশগ্রহণ করা।
✅ উপসংহার : সহ-অর্থ সম্পাদক অর্থ সম্পাদকের বিশ্বস্ত সহকারী। তিনি দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে আর্থিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করে সংগঠনের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করেন। সততা ও ইনসাফপূর্ণ সমন্বয় তাঁর মূল বৈশিষ্ট্য-ইনশাআল্লাহ।
ধারা ১০: সাংগঠনিক সম্পাদক
১. পরিচয় ও সংজ্ঞা
সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ, যিনি সংগঠনের ভিতরগত কাঠামো গঠন, শাখাসমূহের কার্যক্রম পরিচালনা ও সাংগঠনিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি সাধারণ সম্পাদকের সহকারী হিসেবে কাজ করে সংগঠনকে সুশৃঙ্খল ও মজবুতভাবে পরিচালনার
লক্ষ্যে কাজ করেন।
২. প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ
১. মূল সংগঠনের অধীনে সকল শাখা, ইউনিট ও স্তরের কাঠামো গঠনে সক্রিয় থাকা।
২. সকল শাখার সাথে যোগাযোগ ও তাদের কার্যক্রম তদারকি।
৩. নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি ও সদস্যপঞ্জি হালনাগাদ।
৪. প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালা ইত্যাদির আয়োজন।
৫. সংগঠনের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন প্রস্তাবনা প্রস্তুত ও উপস্থাপন।
৬. ঐক্য, শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব।
৭. দলিল, রিপোর্ট, রেজিস্টার সংরক্ষণ।
৮. সভাপতির নির্দেশে রিপোর্ট প্রদান ও দায়িত্ব পালন।
৯. বিশেষ উপকমিটি গঠন ও পরিচালনায় সহায়তা।
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ
“নিশ্চয়ই মুমিনগণ পরস্পরের ভাই, সুতরাং তোমরা তোমাদের ভাইদের মধ্যে সংশোধন করে দাও।” সূরা হুজরাত (৪৯:১০)
৩. ক্ষমতা
১. সাংগঠনিক বিষয়ে মতামত ও প্রস্তাব উপস্থাপন।
২. শাখা সংগঠনসমূহ তদারকি ও মূল্যায়ন।
৩. অনিয়ম বা দ্বন্দ্ব চিহ্নিত করে রিপোর্ট প্রদান।
৪. অনুমোদিত পরিসরে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
৫. নতুন ইউনিট/শাখা গঠনের প্রস্তাবনা উপস্থাপন।
৪. ইসলামি নীতি ও শিষ্টাচার
১. তাকওয়া, আমানতদারি ও সৎচরিত্রের অধিকারী হতে হবে।
২. পক্ষপাত ও দলাদলি থেকে বিরত থাকতে হবে।
৩. পরামর্শ, ধৈর্য ও বিনয়ী আচরণ বজায় রাখতে হবে।
৪. কমিটিতে শরিয়তবিরোধী কিছু ঘটলে উর্ধ্বতনদের জানাতে হবে।
৫. অহংকার বা কর্তৃত্ববাদী আচরণ করা যাবে না।
৬. একতা, শৃঙ্খলা ও খালিস নিয়্যতের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হবে
৫. শর্ত ও যোগ্যতা:
১. সুপরিচিত ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব হতে হবে।
২. সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বদানের যোগ্যতা থাকতে হবে।
৩. সংগঠনের আদর্শ ও নির্দেশনায় সর্বদা আনুগত্যশীল হতে হবে।
৪. সময় ও পরিশ্রম দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।
৬. মেয়াদকাল
১. মেয়াদ তিন (৩) বছর।
২. পুনরায় নির্বাচিত হয়ে আসতে পারবেন।
৩. গাফিলতি বা অনৈতিকতা প্রমাণিত হলে নির্বাহী কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠে মতামতের ভিত্তিতে অপসারণযোগ্য।
৪. নতুন ব্যক্তি দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে বহাল থাকবেন।
৭. প্রতিবেদন ও জবাবদিহিতা
১. প্রতি ছয় মাসে সাধারণ সম্পাদককে লিখিত রিপোর্ট প্রদান করতে হবে।
২. কার্যনির্বাহী পরিষদের নিকট জবাবদিহি করতে হবে।
৩. বৈঠকে প্রয়োজনে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে।
وَقِفُوهُمْ ۖ إِنَّهُم مَّسْئُولُونَ
“তাদের থামাও, তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।” সূরা আস-সাফফাত (৩৭:২৪)
ধারা ১১: প্রচার সম্পাদক
১. সংজ্ঞা ও পরিচয়
প্রচার সম্পাদক হলেন কার্যনির্বাহী কমিটির একজন গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বস্ত সদস্য, যিনি সংগঠনের প্রচার ব্যবস্থাপনার নেতৃত্ব দেন। তিনি সংগঠনের দাওয়াতি ভাবমূর্তি প্রচারে ইসলামি নীতি ও শালীনতা বজায় রেখে কাজ করেন এবং জনগণের নিকট সংগঠনের ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরেন।
📖 وَقُلْ جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ ۚ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا
“বল, সত্য এসেছে এবং মিথ্যা নিশ্চিহ্ন হয়েছে; নিশ্চয়ই মিথ্যা নিশ্চিহ্ন হবারই যোগ্য।”
সূরা ইসরা (১৭:৮১)
ক. প্রচার ও গণসংযোগ
১. সংগঠনের দাওয়াতি ও সামাজিক কার্যক্রম প্রচারে ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেলসহ অন্যান্য মিডিয়া ব্যবস্থাপনা।
২. ইসলামি শালীনতাপূর্ণ পোস্টার, লিফলেট, ভিডিও ও অডিও বার্তা তৈরি ও প্রচার।
৩. সংবাদমাধ্যমে প্রেস রিলিজ, বিবৃতি প্রেরণ এবং মিডিয়া কভারেজ নিশ্চিতকরণ।
৪. জনসাধারণ ও আলেম সমাজের সাথে সমন্বয় রেখে দাওয়াতি কার্যক্রম বিস্তার।
খ. বিশেষ নীতিমালা
১. সকল প্রচারকাজে ইসলামি সৌন্দর্য, ভাষার শালীনতা ও শিষ্টাচার বজায় রাখতে হবে।
২. গুজব, মিথ্যা ও রাজনৈতিক বিতর্ক এড়িয়ে চলতে হবে।
৩. সংগঠনের বা অন্য ইসলামিক সংগঠনের বিরুদ্ধে মানহানিকর কিছু প্রকাশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৪. কাউকে ছোট করা, উপহাস, বিদ্বেষ ছড়ানো বা দলাদলি সৃষ্টিকারী কোনো প্রচার করা যাবে না।
৫. মিডিয়া টিম বা প্রযুক্তি টিম পরিচালনায় পরামর্শ, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীল মনোভাব থাকতে হবে।
✅ উপসংহার : তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রচার সম্পাদক সংগঠনের মুখপাত্র ও প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার অভিভাবক। তাঁর নেতৃত্বে সংগঠনের দাওয়াতি, সামাজিক ও মিডিয়া কার্যক্রম ইসলামি নীতিমালার আলোকে, আদর্শিকভাবে ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হবে-ইনশাআল্লাহ।

ধারা ১২: দপ্তর সম্পাদক
১. সংজ্ঞা ও পরিচিতি
দপ্তর সম্পাদক হলেন লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার-এর একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, যিনি সংগঠনের দাপ্তরিক নথিপত্র, রেজিস্টার, চিঠিপত্র, প্রতিবেদন, অফিস ডকুমেন্টেশন ও তথ্য সংরক্ষণের কাজ অত্যন্ত দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনা করেন। তিনি সাধারণ সম্পাদককে সহায়তা করে অফিসের কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেন।

২. যোগ্যতা ও বৈশিষ্ট্য
১. ইসলামি চেতনা, আমানতদারি ও নৈতিকতা থাকা বাধ্যতামূলক।
২. লেখালেখি, তথ্য সংরক্ষণ ও দাপ্তরিক কাজে অভ্যস্ত হতে হবে।
৩. সংগঠনের প্রতি আনুগত্যশীল, সময়নিষ্ঠ ও পরিশ্রমী হতে হবে।
৪. গোপনীয়তা রক্ষায় সচেতন ও সৎ আচরণে অভ্যস্ত হতে হবে।
৫. প্রতিটি বৈঠকের পর স্বাক্ষরিত কার্যবিবরণী সংরক্ষণ।
৪. আইন-কানুন ও ইসলামি নীতিমালা
১. গোপনীয়তা রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য শর্ত।
২. অনুমতি ছাড়া কোনো নথি ফাঁস করলে তা শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে।
৩. নথিপত্র সংরক্ষণের জন্য ডিজিটাল ও লিখিত দুই ধরনের সিস্টেম বজায় রাখতে হবে।
৪. মাসিক/ত্রৈমাসিক রিপোর্ট সাধারণ সম্পাদকের কাছে দাখিল করতে হবে।
৫. দায়িত্বে অবহেলা হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য।
৭. দাপ্তরিক সামগ্রী ও রেজিস্টার তালিকা
১. অফিস রেজিস্টার খাতা
২. চিঠিপত্র রেকর্ড খাতা
৩. সদস্য তালিকা খাতা
৪. সভার কার্যবিবরণী খাতা
৫. রসিদ বই ও বিল সংরক্ষণ খাতা
৭. অফিস আসবাব ও প্রযুক্তি তালিকা
✅ উপসংহার : দপ্তর সম্পাদক সংগঠনের অফিস কার্যক্রম ও তথ্য সংরক্ষণের প্রাণকেন্দ্র। তাঁর দায়িত্ব কেবল ফাইল রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো প্রশাসনিক কাঠামোর মূল সহায়ক শক্তি। গোপনীয়তা, আমানতদারি, সময়ানুবর্তিতা ও দক্ষতা-এই চার গুণের সমন্বয়েই একজন সফল দপ্তর সম্পাদক গড়ে ওঠে।

ধারা ১৩ : শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক
১. সংজ্ঞা ও পরিচয়
শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক হলেন লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার-এর একজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল ব্যক্তি, যিনি সংগঠনের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দাওয়াতি কার্যক্রমের সার্বিক পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সদস্যদের আত্মউন্নয়ন, দক্ষতা অর্জন এবং ইসলামী নেতৃত্ব বিকাশে প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করেন।
২. উদ্দেশ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি
১. ঈমান, আমল, আখলাক, দক্ষতা ও আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ইসলামি সমাজ গঠনে শিক্ষিত ও সচেতন নেতৃত্ব তৈরি করা।
২. যুগোপযোগী ও সুন্নাহসম্মত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে সদস্য ও সাধারণ মুসলমানদের মানসিক, আধ্যাত্মিক ও কর্মজীবনভিত্তিক বিকাশ নিশ্চিত করা।

৩. কোর্সসমূহ
সকল ধরনের শিক্ষামূলক কোর্স বাস্তবায়ন: শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক-এর তত্ত্বাবধানে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও উপ-কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হবে:
(ক) আরবি ভাষা ও ইসলামিক স্টাডি, বেসিক আরবি ও কুরআনিক আরবি, ইসলামিক বক্তৃতা ও দাওয়াহ মেথড, হাদীস চর্চা, ইসলামি নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ।
(খ) নূরানী মোয়াল্লিম প্রশিক্ষণ আত্যাধুনিক পদ্দতিতে শিশু মনোবিজ্ঞান ও ক্লাস ম্যানেজমেন্ট
(গ) মহিলা মুআল্লিমা প্রশিক্ষণ
(ঘ) হিফজুল কুরআন মুয়াল্লিম প্রশিক্ষন।
(ঙ) পেশাভিত্তিক ও জীবন দক্ষতা
৪. বাস্তবায়ন কাঠামো
১. প্রশিক্ষণের সিলেবাস, সময়সূচি, ফি, স্থান ইত্যাদি সাধারণ সম্পাদকের অনুমোদনক্রমে নির্ধারণ করা হবে।
২. কোর্স শেষে সার্টিফিকেট প্রদান ও মূল্যায়ন গ্রহণযোগ্য নীতিমালায় পরিচালিত হবে।
৫. আর্থিক ব্যবস্থাপনা
১. প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগঠনের শিক্ষা ফান্ড, দান ও অংশগ্রহণ ফি থেকে গ্রহণযোগ্য হবে।
২. ব্যয়াবলীর ক্ষেত্রে শিক্ষা সম্পাদক, অর্থ সম্পাদক এবং সাধারণ সম্পাদকের যৌথ নির্দেশনায় কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

৭. মূল্যায়ন ও রিপোর্টিং
১. প্রতিটি কোর্স শেষে অংশগ্রহণকারীদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে।
২. প্রতিবছর প্রশিক্ষণ রিপোর্ট কার্যনির্বাহী পরিষদে উপস্থাপন করতে হবে।
৩. প্রশিক্ষণের ফলাফল সংরক্ষণপূর্বক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় যুক্ত করতে হবে।
✅ উপসংহার : শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক পদটি কেবল জ্ঞান বিতরণ নয়, বরং একটি ইসলামিক সমাজ গঠনের হাতিয়ার। ধর্মীয় আদর্শ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণে উজ্জীবিত এক প্রজন্ম গঠনে এই পদধারীর ভূমিকাই হবে সংগঠনের অন্যতম শক্তি।

ধারা ১৪: গবেষণা, প্রকাশনা সম্পাদক
১. সংজ্ঞা ও পরিচিতি
গবেষণা, প্রকাশনা সম্পাদক হলেন—লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার সংগঠনের জ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন গুরুত্ববহ পদাধিকারী। তিনি ইসলামি, সামাজিক ও শিক্ষামূলক গবেষণা, প্রকাশনা এবং লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সংগঠনের জ্ঞান চর্চা, আদর্শ প্রচার এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রযাত্রার নেতৃত্ব প্রদান করেন।

২. উদ্দেশ্য
১. ইসলামি আদর্শভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে সমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ।
২. কুরআন-হাদীস ভিত্তিক লেখালেখি ও প্রকাশনার মাধ্যমে সাধারণ মুসলিম সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি।
৩. একটি সুগঠিত ও সমৃদ্ধ পাঠাগার গঠন ও পরিচালনার মাধ্যমে ইসলামি সাহিত্য সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ।
৩. দায়িত্ব ও কার্যাবলী
১. ইসলামি প্রবন্ধ, বই, লিফলেট ও সাহিত্য রচনা ও সম্পাদনার ব্যবস্থা করা।
২. সংগঠনের পক্ষ থেকে কুরআন, হাদীস, ইতিহাস, সমাজনীতি ইত্যাদি বিষয়ে প্রকাশনা পরিচালনা।
৩. লেখক, আলেম ও ছাত্রদের গবেষণায় উৎসাহ প্রদান এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সম্পাদনা সহায়তা।
৪. লাইব্রেরির জন্য প্রয়োজনীয় বই সংগ্রহ, তালিকাভুক্তকরণ ও নিরাপদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।
৫. কোনো লেখায় কাউকে হেয় বা অপমান করা যাবে না।
৮. বিশেষ নির্দেশনা
১. প্রতি তিন মাসে গবেষণা ও প্রকাশনা সংক্রান্ত প্রতিবেদন সাধারণ সম্পাদক বরাবর দাখিল করতে হবে।
২. লাইব্রেরির বার্ষিক পরিকল্পনা, বইয়ের তালিকা ও প্রস্তাবনা প্রস্তুত করে উপস্থাপন করতে হবে।
৩. প্রতিটি প্রকাশনার কমপক্ষে তিনটি কপি সংগঠনের প্রধান অফিসে সংরক্ষণ করতে হবে।
✅ উপসংহার: গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক একজন নীরব সংগঠক, যিনি জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব দিয়ে সংগঠনকে আদর্শিকভাবে সমৃদ্ধ করেন। তাঁর কলম ও গবেষণাই
সমাজে পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি।
ধারা ১৫: পরিকল্পনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পাদক
১. সংজ্ঞা ও পরিচিতি
১. পরিকল্পনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পাদক হলেন- লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার-এর একজন গুরুত্বপূর্ণ কার্যনির্বাহী সদস্য, যিনি সংগঠনের স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবেন।
১. তিনি সংগঠনের গঠনতন্ত্র, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও ইসলামি আদর্শের আলোকে প্রয়োজনীয়
পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের সার্বিক সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করবেন।
২. যোগ্যতা ও শর্তাবলী
১. দ্বীনি ও দুনিয়াবি জ্ঞানে সুদক্ষ, দায়িত্বশীল, বিচক্ষণ ও সংগঠনের কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
২. স্বচ্ছতা, দূরদর্শিতা, ও সুফল বিবেচনায় অগ্রাধিকার নির্ধারণের সক্ষমতা থাকতে হবে।
৩. পরিকল্পনার বাস্তবায়নে নেতৃত্বদানের মানসিকতা ও সময় দেওয়ার আন্তরিকতা থাকতে হবে।
৩. দায়িত্ব ও কাজের পরিধি
১. সংগঠনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বার্ষিক ও মাসিক পরিকল্পনা প্রস্তুত ও সমন্বয় করা।
২. বিভিন্ন সম্পাদক, ইউনিট বা বিভাগের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাবনাগুলো বিশ্লেষণ ও সমন্বয় করা।
৩. প্রতিটি প্রকল্পের জন্য বাজেট প্রস্তুত করে কার্যনির্বাহী কমিটিতে উপস্থাপন।
৪. অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর কাজ তদারকি, রিপোর্ট তৈরি ও অগ্রগতি মূল্যায়ন করা।
৫. অর্থ সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করা।
৬. পরিকল্পনার ক্ষেত্রে কৌশল নির্ধারণ, সময়সীমা নির্ধারণ এবং বাস্তবায়নের পর্যবেক্ষণ
নিশ্চিত করা।
৪. নীতিমালা
১. পরিকল্পনা ও প্রকল্প হতে হবে শরীয়াহ, গঠনতন্ত্র ও সংগঠনের মূলনীতি-ভিত্তিক।
২. প্রকল্প বাস্তবায়নে شفافية (স্বচ্ছতা), محاسبة (জবাবদিহিতা) ও نتائج (ফলাফল) নির্ভরতা বজায় রাখতে হবে।
📖 إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ إِذَا عَمِلَ أَحَدُكُمْ عَمَلًا أَنْ يُتْقِنَهُ
“আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন যে, তোমাদের কেউ কোনো কাজ করলে তা নিখুঁতভাবে
করুক।” (মুস্তাদরাক হাকিম)
৫. ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব
১. প্রস্তাবিত পরিকল্পনা ও প্রকল্প কার্যনির্বাহী কমিটিতে উপস্থাপন করার অধিকার থাকবে।
২. অনুমোদিত প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি তদারকির অধিকার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন।
✅ উপসংহার: পরিকল্পনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পাদক যেন শুধু পরিকল্পনাকারী না হয়ে বাস্তবায়নের নেতৃত্বদাতা হন, এটাই লক্ষ্য। ইসলামি দৃষ্টিকোণে উত্তম পরিকল্পনা ও
যথাযথ বাস্তবায়ন হলো দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রতীক।
ধারা ১৬: দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক
১. সংজ্ঞা
১. দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক হলেন এমন একজন দ্বীনি ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি, যিনি সংগঠনের পক্ষ থেকে ইসলামি দাওয়াত, তাবলীগী কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট সচেতনতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দ্বীনের সুমহান আহ্বান সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সংগঠনের একজন মুখ্য দাঈ।
২. পরিচিতি ও গুরুত্ব
১. এই পদটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও আমানতের পদ। কুরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে ঈমান, আমল ও আখলাক সংশোধনে অব্যাহত দাওয়াতি কাজ পরিচালনাই এ পদের মূল উদ্দেশ্য।
📖 وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ
“তোমাদের মধ্যে এমন একদল থাকা উচিত, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান
জানাবে…”সূরা আলে ইমরান:১০৪
৩. প্রধান দায়িত্বসমূহ
১. দাওয়াতি কার্যক্রম: ওয়ার্ড/ইউনিয়নভিত্তিক হালকাহ, ইসলাহি মজলিস, ওয়াজ ও আলোচনার আয়োজন দ্বীনি লিফলেট, কিতাব ও মিডিয়া কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার।
২. জনসম্পৃক্ততা : যুব সমাজ, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও সাধারণ জনগণের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া সমাজের অবহেলিত, পথভ্রষ্ট ও মাদকাসক্ত শ্রেণিকে সংশোধনের আহ্বান জানানো গনসংযোগমূলক দাওয়াতি সফর, সৌজন্য সাক্ষাৎ, আলোচনাসভা আয়োজন।
৩. বিশেষ দিবস ও ইভেন্ট : রমযান, ঈদ, শবে বরাত, আশুরা ইত্যাদি উপলক্ষে ইসলামি প্রোগ্রাম আয়োজন বিশেষ দাওয়াতি ক্যাম্পেইন।
ক “নামাজে আহ্বান”
খ “ইসলামই শান্তি”
গ “সুন্নাতে মুক্তি”
ঘ “একতাই বল”
ঙ “তওবার পথে ফিরে আসুন”
৪. যোগ্যতা ও শর্তাবলী
১. যোগ্যতা : দ্বীনী শিক্ষায় দক্ষ (কমপক্ষে দাওরায়ে হাদীস) তাবলীগ, দাওয়াত ও বক্তৃতা খাতে বাস্তব অভিজ্ঞতা, সুন্দর আখলাক ও প্রাঞ্জল ভাষায় বক্তব্য রাখার সামর্থ্য
ইসলামি আক্বীদা ও সুন্নাহভিত্তিক চেতনা
৫. সাংগঠনিক অধিকার ও ক্ষমতা
দাওয়াতি প্রোগ্রামের জন্য মজলিস আহ্বান, বক্তা নির্বাচন ও প্রতিনিধি দল গঠনের ক্ষমতা অন্য সম্পাদক বা বিভাগের সহায়তা চাইতে পারবেন, গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রামের জন্য বাজেট প্রস্তাব করার অধিকার থাকবে, কোনো বাধা বা বিরোধ দেখা দিলে তা সমাধানের
জন্য কার্যনির্বাহী কমিটির হস্তক্ষেপ চাইতে পারবেন
✅ উপসংহার: দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক পদটি কেবল সংগঠনের একটি দায়িত্ব নয়, বরং নবুয়তের মহান দায়িত্বের উত্তরাধিকার। এই পদের মাধ্যমে সমাজে হিদায়াতের আলো পৌঁছানো, তরুণ প্রজন্মকে সুন্নাহর পথে ফিরিয়ে আনা, এবং ইসলামি সমাজ
বিনির্মাণের কাজে অগ্রণী ভূমিকা রাখা সম্ভব।
ধারা ১৭: ইসলামি সাংস্কৃতিক ও মাহফিল বাস্তবায়ন সম্পাদক
১. সংজ্ঞা
ইসলামি সাংস্কৃতিক ও মাহফিল বাস্তবায়ন সম্পাদক হলেন লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার-এর একজন কর্মঠ, উৎসাহী ও আমানতদার সদস্য, যিনি সংগঠনের পক্ষ থেকে ধর্মীয়, আদর্শিক ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানসমূহ- যেমন ওয়াজ-মাহফিল, ইসলাহী জালসা, সীরাত মাহফিল, ইসলামি নাটিকা ও সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম-পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের নেতৃত্ব দেন।
“وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّن دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا”
“আল্লাহর পথে আহ্বান করে এবং সৎকর্ম করে—তার চেয়ে উত্তম কথা আর কার?”সূরা ফুসসিলাত: ৩৩
২. মূল দায়িত্ব ও কর্তব্য
১. ইসলামী আলোচনা, সীরাত মাহফিল, দোয়া মাহফিল, ইসলাহী সভা ও তাবলীগি জালসার আয়োজন।
২. ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে লিফলেট বিতরণ, শিক্ষামূলক উপস্থাপনা ইত্যাদি আয়োজন।
৩. বার্ষিক ঈমানি সম্মেলন, ইসলামি সাংস্কৃতিক মেলা, ক্বিরাত প্রতিযোগিতা, সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল বাস্তবায়ন।
৪. দাওয়াত ও তাবলীগ বিভাগের সহযোগিতায় গণসচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম পরিচালনা।
৫. মাহফিল আয়োজনে মঞ্চ, শব্দ, ব্যানার, সময়সূচি, অতিথি তালিকা, মিডিয়া কাভারেজ ও প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা।
৩. ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা
১. কমিটির অনুমোদন ব্যতীত কোনো মাহফিল বা অনুষ্ঠান এককভাবে আয়োজন করতে পারবেন না।
২. বক্তা বা শিল্পী নির্বাচনের ক্ষেত্রে শরীয়ত-সম্মত দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে হবে। বিদআত বা শরীয়তবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ দেওয়া যাবে না।
৩. মাহফিল বা অনুষ্ঠান চলাকালে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য, চাঁদাবাজি বা বিশৃঙ্খলা
হলে সম্পাদক দায়ী হবেন।
৩. মেয়াদকাল ও যোগ্যতা
১. মেয়াদ ৩ (তিন) বছর। প্রয়োজনে কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্তে পুনঃনিয়োগযোগ্য।
২. দীনি জ্ঞানসম্পন্ন ও সুন্নাহভিত্তিক চিন্তাধারায় বিশ্বাসী হতে হবে।
৩. সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও জনসম্পর্কে পারদর্শী হতে হবে।
৪. মাহফিল আয়োজনের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলে অগ্রাধিকারযোগ্য।
৫. আমানতদার, সুশৃঙ্খল ও পরহেযগার ব্যক্তি হওয়া আবশ্যক।
৪. অতিরিক্ত দায়িত্ব
সংগঠনের অনুষ্ঠানসমূহের ভিডিও/অডিও রেকর্ডিং সংরক্ষণ ও মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রচার করা। আঞ্চলিক মসজিদ-মাদরাসার সাথে সমন্বয় করে মাহফিল আয়োজন ও দাওয়াতি কার্যক্রমে সহযোগিতা নিশ্চিত করা।
✅ উপসংহার:
📜 “الدال على الخير كفاعله”
“যিনি কল্যাণের প্রতি আহ্বান করেন, তিনি নিজেও কল্যাণকারীর সমতুল্য।” তিরমিযি: ২৬৭০
এই পদটি ইসলাম প্রচার, ঈমানী জাগরণ এবং সমাজে শুদ্ধ সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার একটি মূল
স্তম্ভ। দীনদার, চিন্তাশীল ও সংগঠক ব্যক্তিকে এই দায়িত্বে নিযুক্ত করা উচিত।
ধারা ১৮: মানবিক সাহায্য ও ত্রাণ সম্পাদক
১. সংজ্ঞা : মানবিক সাহায্য ও ত্রাণ সম্পাদক হলেন- একজন সংবেদনশীল, দ্বীনদার ও কর্মঠ দায়িত্বশীল ব্যক্তি, যিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অগ্নিকা-, মহামারি, দরিদ্রতা বা সামাজিক বিপর্যয়ের সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ, সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
২. মূল দায়িত্ব ও কর্তব্য
১. অঞ্চলভিত্তিক ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদান।
২. ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ, সংরক্ষণ, যাচাই ও বিতরণের কার্যক্রম পরিচালনা।
৩. মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা, দরিদ্র ছাত্র ও অসহায় পরিবারকে সহায়তা প্রদান।
৪. দুর্যোগকালীন সময়ে ভলান্টিয়ার টিম গঠন ও পরিচালনা।
৫. মানবিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হিসাব সংরক্ষণ ও প্রতিবেদন তৈরি।
৩. ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা
১. অর্থ ও ত্রাণ বিতরণে একক সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না; নির্বাহী কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন।
২. লেনদেন ও কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে হবে।
৩. ত্রাণের নামে কোনো রকম রাজনীতি, পক্ষপাত বা বিভেদমূলক কাজ নিষিদ্ধ।
৪. মেয়াদকাল ও যোগ্যতা
১. মেয়াদ ৩ (তিন) বছর। মেয়াদ শেষে প্রয়োজনমতো পুনঃমনোনয়ন বা পুনঃনির্বাচন করা যেতে পারে।
২. দ্বীনদার, আমানতদার ও সেবামনস্ক হতে হবে।
৩. সমাজসেবায় উৎসাহী ও বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকা আবশ্যক।
৪. সংগঠনের লক্ষ্য ও আদর্শের প্রতি আন্তরিক আনুগত্য থাকা জরুরি।
৫. দায়িত্ব পালনের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্ষম হতে হবে।
৬. অপরাধমুক্ত, গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি হতে হবে।
✅ উপসংহার
“الساعي على الأرملة والمسكين كالمجاهد في سبيل الله”
“যে ব্যক্তি বিধবা ও মিসকিনদের দেখাশোনার চেষ্টা করে, সে আল্লাহর পথে জিহাদকারীর মতো।” সহীহ বুখারী ও মুসলিম
এই পদটি ইসলামের দয়া, সহানুভূতি ও মানবিকতার মহান আদর্শ বাস্তবায়নের কার্যকর মাধ্যম। একজন খোদাভীরু, আমানতদার ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি এই দায়িত্বে নিযুক্ত হওয়া উচিত।
ধারা ১৯: ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক
১. সংজ্ঞা : ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক হলেন- একজন অভিজ্ঞ আলেম, দায়িত্বশীল ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি, যিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্বীনি পরিবেশ সংহতকরণ, ছাত্র-শিক্ষকদের সহায়তা এবং ইসলামী মূল্যবোধ ভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
২. মূল দায়িত্ব ও কার্যাবলি:
১. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্বীনি পরিবেশ, সংহতি ও আদর্শভিত্তিক ঐক্য সৃষ্টি।
২. অসুস্থ ও অসহায় ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য চিকিৎসা সহায়তা ও আর্থিক অনুদান প্রদান।
৩. মেধা যাচাই ও ইসলামিক প্রতিযোগিতা (হিফজ, তাফসীর, বক্তৃতা, রচনা) আয়োজন।
৪. মেধাবী ও দ্বীনী ছাত্রদের স্কলারশিপ ও সুপারিশ কার্যক্রম পরিচালনা।
৫. ছাত্রদের মধ্যে দ্বীনদার নেতৃত্ব গড়ে তুলতে তারবিয়াহ ভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণ।
৩. ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা:
১. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্মন্বয় করে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. কোনো রকম পক্ষপাত, রাজনীতি বা স্বজনপ্রীতির ভিত্তিতে সুবিধা প্রদান নিষিদ্ধ।
৪. মেয়াদকাল:
১. মেয়াদ: ৩ বছর। প্রয়োজনে পুনঃমনোনয়ন/নির্বাচনের সুযোগ থাকবে।
ধারা ১৯ : আইন বিষয়ক সম্পাদক
১. সংজ্ঞা ও পরিচিতি : আইন বিষয়ক সম্পাদক হলেন- লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার-এর শরঈ দায়ী ও ইসলামি আইনগত বিষয়াদি দেখাশোনা ও ফতওয়া সংক্রান্ত দায়িত্বে নিয়োজিত একজন অভিজ্ঞ মুফতি, যিনি কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াসের আলোকে সমাজ ও সংগঠনের জটিল প্রশ্ন সমূহে শরঈ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
”তোমরা যদি না জানো, তাহলে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো।” সূরা নাহল: ৪৩
২: প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য :
১. ব্যক্তি, সমাজ ও সংগঠন সম্পর্কিত জটিল প্রশ্নে নির্ভরযোগ্য শরঈ ফতওয়া প্রদান।
২. ফতওয়া পরিষদ গঠন করে দলগত পরামর্শে জটিল মাসআলা নির্ধারণ ও ফয়সালা করা।
৩. সমসাময়িক ইস্যুতে (যেমন: রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক) শরঈ ব্যাখ্যা প্রদান করে ইসলামের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি সমাজে তুলে ধরা।
৪. সংগঠনের ওয়েবসাইট, মিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যমে শরঈ দৃষ্টিকোণ তুলে ধরা ও প্রচার করা।
৩: ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা:
১. আইন ও ফতওয়া সম্পাদক এককভাবে সংবেদনশীল ও জটিল ফতওয়া ইস্যু করতে পারবেন না। তাকে ফতওয়া বোর্ডের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।
২. সংগঠনের ঐক্য, আদর্শ বা ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন হয় এমন কোনো মতামত বা ব্যাখ্যা প্রকাশ করা যাবে না।
“وَإِنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ، وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ”
“এটাই আমার সরল পথ, তা অনুসরণ করো; অন্য পথে চলো না।” সূরা আন’আম: ১৫৩
৩: যোগ্যতা :
১. কোনো স্বীকৃত দেওবন্দি ধারার মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল) উত্তীর্ণ হতে হবে।
২. ইসলামি ফিকহ ও উসুলে ফিকহ বিষয়ে গভীর জ্ঞান ও ফতওয়া প্রদানের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
৩. আমানতদার, নিরপেক্ষ, তাকওয়াবান হতে হবে।
✅ উপসংহার: এই পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানিত, কারণ এটি সরাসরি শরীয়তের আলোকে মুসলিম সমাজকে পথনির্দেশ প্রদান করে।
“العلماء ورثة الأنبياء” “উলামাগণ হচ্ছেন নবীগণের উত্তরসূরি।”আবু দাউদ: ৩৬৪১
“إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ”“আল্লাহর প্রকৃত ভয় একমাত্র জ্ঞানীরাই রাখে।”সূরা ফাতির: ২
এজন্য ফতওয়া সম্পাদক হিসেবে এমন মুফতি মনোনীত করতে হবে যিনি কুরআন-
সুন্নাহর জ্ঞান, তাকওয়া ও হিকমতের অধিকারী হন।
ধারা ২০: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবদান সংরক্ষণ সম্পাদক
১: সংজ্ঞা ও পরিচিতি
১. ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবদান সংরক্ষণ সম্পাদক হলেন এমন একজন সম্মানিত ও আমানতদার ব্যক্তি যিনি সংগঠনের জন্মলগ্ন থেকে বর্তমান পর্যন্ত সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, ঐতিহাসিক ঘটনা, গুণীজনের অবদান, উলামা-মাশায়েখের কর্ম, ইসলামী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য দলিলভিত্তিকভাবে সংরক্ষণ ও উপস্থাপনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকবেন।
২. তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি আদর্শিক ও বৈষয়িক ইসলামী ঐতিহ্যের
দলিলভা-ার তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করবেন।

২: প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য
১. সংগঠনের ইতিহাস ও গঠন প্রক্রিয়া দলিলসহ সংরক্ষণ ও হালনাগাদ করা।
২. প্রতিষ্ঠাতা ও গুণী উলামায়ে কেরামের জীবনী, অবদান ও স্মৃতিচারণমূলক লেখা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ।
৩. শহীদ, বরেণ্য সদস্য ও দায়িত্বশীলদের স্মরণিকা তৈরি করা।
৪. সকল গুরুত্বপূর্ণ সভা, সেমিনার, সিদ্ধান্ত, মিটিং ও রিপোর্টের রেকর্ড সংরক্ষণ।
৫. অঞ্চলভিত্তিক ঐতিহাসিক ইসলামী চেতনার গবেষণা ও ফিল্ড-ওয়ার্ক পরিচালনা।
৬. পুরাতন নথিপত্র, কাগজ, ছবি, অডিও-ভিডিও, পা-ুলিপি ইত্যাদি ডিজিটাল আর্কাইভে সুরক্ষিত রাখা।
৭. সংগঠনের জন্য ইতিহাসনির্ভর প্রকাশনা, ডকুমেন্টারি, স্মারক গ্রন্থ তৈরি ও প্রকাশে সহযোগিতা।
৮. কোনো তথ্য দলিলবিহীন বা যাচাই ছাড়া প্রকাশ করা যাবে না।
৯. ইতিহাস সংরক্ষণের নামে কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করা যাবে না।
১০. সংগঠনের অনুমতি ছাড়া কোনো তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে না।
✅ উপসংহার: এই পদটি “লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার”–এর একটি অত্যন্ত গৌরবময়, আদর্শিক ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ইতিহাস হলো জাতির আয়না এবং ভবিষ্যতের পথনির্দেশক। যে জাতি তার অতীত জানে না, সে ভবিষ্যত নির্মাণেও ব্যর্থ হয়।
অতএব, এই সম্পাদককে বিশ্বস্ততার সাথে সত্যনিষ্ঠ ইতিহাস সংরক্ষণে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
অধ্যায়-১২: ইউনিয়ন/ পৌরসভা কমিটি
প্রস্তাবনা : আলহামদু লিল্লাহ, দ্বীনি খেদমত, সমাজকল্যাণ ও আত্মসংশোধনের লক্ষ্যে লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার-এর অধীনে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি শক্তিশালী, সুসংগঠিত কাঠামো গড়ে তোলাই এই গঠনতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য।
ধারা ১ : নাম
১. কমিটির পূর্ণ নাম: “ইউনিয়ন কমিটি, লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার।
ধারা ২ : লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
(ক) এলাকায় ইসলামি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি।
(খ) থানা কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন।
(গ) স্থানীয় সহযোগিতা, ইসলাহি ও সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্প পরিচালনা এবং সার্বিক
সমন্বয় রক্ষা।
ইউনিয়ন/পৌরসভা কমিটি ৩১ সদস্য
ধারা ৩ : পদসমূহের গঠনতান্ত্রিক ধারাবাহিক সিরিয়াল ও দায়িত্ব
১. সভাপতি
২. সহ-সভাপতি
৩. সাধারণ সম্পাদক
৪. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
৫. সাংগঠনিক সম্পাদক
৬. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক
৭. অর্থ সম্পাদক
৮. সহ-অর্থ সম্পাদক
৯. প্রচার সম্পাদক
১০. দপ্তর সম্পাদক
১১. প্রশিক্ষণ সম্পাদক
১২. সহ প্রশিক্ষণ সম্পাদক
১৩. আইন ও ফতোয়া সম্পাদক
১৪. দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক
১৫. ইসলামি সাংস্কৃতিক সম্পাদক
১৬. সহ ইসলামি সাংস্কৃতিক বাস্তবায়ন সম্পাদক
১৭. মানবিক সাহায্য ও ত্রাণ সম্পাদক
১৮. ছাত্র বিয়ষক সম্পাদক
অধ্যায়-১৩ ওয়ার্ড কমিটি
প্রস্তাবনা: আলহামদু লিল্লাহ, দ্বীনি খেদমত, সমাজকল্যাণ ও আত্মসংশোধনের লক্ষ্যে লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার- এর অধীনে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি শক্তিশালী, সুসংগঠিত কাঠামো গড়ে তোলাই এই গঠনতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য।
ধারা ১ : নাম
১. কমিটির পূর্ণ নাম: “ওয়ার্ড কমিটি, লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার- [ওয়ার্ড নম্বর], [ইউনিয়ন/পৌরসভা]”।
ধারা ২ : লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
(ক) এলাকায় ইসলামি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি।
(খ) থানা ও ইউনিয়ন কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী ওয়ার্ড পর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন।
(গ) স্থানীয় সহযোগিতা, ইসলাহি ও সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্প পরিচালনা এবং সার্বিক সমন্বয় রক্ষা।
ধারা ৩ : কমিটির গঠন ও পদ
ওয়ার্ড কমিটিতে নি¤œলিখিত সাত (৭)টি পদ থাকবে-
১. সভাপতি
২. সাধারণ সম্পাদক
৩. অর্থ সম্পাদক
৪. সাংগঠনিক সম্পাদক
৫. প্রচার সম্পাদক
৬. দফতর সম্পাদক
৭. সদস্যবৃন্দ (সর্বোচ্চ ১১ জন)।
ধারা ৪ : সদস্যপদ ও যোগ্যতা
আবশ্যিক শর্তাবলি-প্রার্থীকে
(ক) সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে;
(খ) সংগঠনের কর্মকা-ে নিয়মিত অংশগ্রহণকারী হতে হবে।
ধারা ৫ : কমিটি গঠনের পদ্ধতি
১. ওয়ার্ডের সদস্যরা মতামত দেবেন; ইউনিয়ন কমিটি যাচাই-বাছাই করে উপযুক্ত প্রার্থী মনোনয়ন করবে।
২. প্রার্থী নিজ থেকে কোনো পদে মনোনয়ন জমা দিতে পারবে না; যোগ্যতাসম্পন্নদের মধ্য থেকে আহ্বানের ভিত্তিতে মনোনয়ন হবে।
৩. নির্বাচন কমিশন (৩-৫ জন)- থানা ও ইউনিয়ন কমিটির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে, ভোট গ্রহণ ও ফল ঘোষণার দায়িত্ব পালন করবে।
৪. ভোটার: ওয়ার্ডের সকল সদস্য; মনোনীত প্রার্থীর ভোটাধিকার থাকবে।
৫. ওয়ার্ড কমিটির নির্বাচিত সদস্যদের তালিকা ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমোদন গ্রহণ করা।
৬. অনুমোদনকৃত ওয়ার্ড কমিটির সদস্যদের নাম পদবী সহ রেজিস্টার খাতায় সংরক্ষণ করা
ধারা ৬ : মেয়াদ :
১. কমিটির কার্যকাল তিন (৩) বছর।
২. মেয়াদ শেষ হলে একই পদ্ধতিতে নতুন কমিটি গঠিত হবে।
ধারা ৭ : দায়িত্ব ও কর্তব্য
১. সভাপতি
(ক) কমিটির প্রধান ও নীতি-নির্ধারক;
(খ) সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ঐক্য রক্ষায় নেতৃত্ব প্রদান;
(গ) মেয়াদে অন্তত তিনটি সাধারণ সভা আহ্বান করা।
২. সাধারণ সম্পাদক
(ক) মাসিক সভা পরিচালনা ও কার্যবিবরণী প্রস্তুত;
(খ) কার্যক্রম সমন্বয়, রিপোর্ট প্রণয়ন ও ইউনিয়ন কমিটিতে দাখিল;
(গ) প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ।
৩. অর্থ সম্পাদক
(ক) মাসিক চাঁদা ও অন্যান্য অনুদান সংগ্রহ;
(খ) সঠিক বই–বিবরণীর মাধ্যমে হিসাব সংরক্ষণ;
(গ) প্রতি মাসে অর্থ ইউনিয়ন কমিটিতে রেজুলেশনসাপেক্ষে জমা প্রদান।
৪. সাংগঠনিক সম্পাদক
(ক) সদস্য বৃদ্ধি ও তালিকা হালনাগাদ;
(খ) কার্যক্রম তদারকি ও সুসংগঠন নিশ্চিতকরণ।
৫. প্রচার সম্পাদক
(ক) ওয়েবসাইট, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব ইত্যাদির মাধ্যমে প্রচার।
(খ) বিজ্ঞপ্তি, লিফলেট ও ডিজিটাল কনটেন্ট প্রস্তুত;
(গ) ইসলামী দাওয়াতি বার্তা অনলাইনে সম্প্রচার।
৬. দফতর সম্পাদক:
(ক) ইসলামি চেতনা, আমানতদারি ও নৈতিকতা থাকা বাধ্যতামূলক।
(খ) লেখালেখি, তথ্য সংরক্ষণ ও দাপ্তরিক কাজে অভ্যস্ত হতে হবে।
(গ) সংগঠনের প্রতি আনুগত্যশীল, সময়নিষ্ঠ ও পরিশ্রমী হতে হবে।
(ঘ) গোপনীয়তা রক্ষায় সচেতন ও সৎ আচরণে অভ্যস্ত হতে হবে।
(ঙ) প্রতিটি বৈঠকের পর স্বাক্ষরিত কার্যবিবরণী সংরক্ষণ।
(চ) কার্যকর সদস্য তালিকা, সভার রেজুলেশন ও কমিটির তালিকা যথাযথ সংরক্ষণ।
(ছ) আয়ের রশিদ খরচের ভাউচার সংরক্ষণ করা।
(জ) সকল কার্যক্রম ডকুমেন্টারি যথাযথভাবে সংরক্ষণ রাখা।
৭. ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক
(ক) ওয়ার্ডের ছাত্রদের নৈতিক-শিক্ষাগত উন্নয়নে সহায়তা;
(খ) দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রদের বৃত্তি/সাহায্য কার্যক্রম;
(গ) ইসলামি কর্মশালা, হিফ্জ ও দ্বীনি কোর্স আয়োজন;
(ঘ) নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি, তালিকা সংরক্ষণ ও আপডেট;
(ঙ) প্রচার, শিক্ষা ও সাংগঠনিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়।
ধারা ৮: সদস্য আচরণবিধি
(ক) কেবল সংগঠনের নোটিশ ও দ্বীনি আলোচনা
(খ) রাজনীতি/অপ্রাসঙ্গিক পোস্ট নিষিদ্ধ।
(গ) রাত ১১টার পর পোস্ট নয় (প্রয়োজনে ব্যতিক্রম)
(ঘ) শালীন ভাষা ও পারস্পরিক সম্মান।
(ঙ) ফান্ড-সংক্রান্ত তথ্য আগে অ্যাডমিনকে জানাতে হবে।
ধারা ৯ : সাধারণ পরামর্শ
(ক) কমিটি গঠনের আগে কমপক্ষে দুটি বৈঠকে মতামত গ্রহণ;
(খ) ইউনিয়ন কমিটির একজন প্রতিনিধি দ্বারা নিয়মিত পর্যবেক্ষন।
ধারা ১০ : সংশোধনী ও বিলুপ্তি
১. গঠনতন্ত্রের যেকোনো সংশোধন দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের প্রস্তাবে থানা কমিটির অনুমোদনে কার্যকর হবে।
২. গঠনতন্ত্রে নতুন কিছু সংযোজন বড় ধরনের বিয়োজন করতে হলে ইউনিয়ন কমিটির সুপারিশে থানা কমিটির মাধ্যমে উপদেষ্টা কমিটি কর্তৃক অনুমোদন লাগবে। তবে এর জন্য যুক্তিসংগত কারণ ও লিখিত প্রমাণ বাধ্যতামূলক।
অধ্যায় ১৪: সভা, অধিবেশন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতি
ধারা ১: সভার প্রকারভেদ
১. সকল স্তরের কমিটিতে নি¤েœাক্ত ধরণের সভা অনুষ্ঠিত হবে
(ক) নিয়মিত মাসিক সভা
(খ) ত্রৈমাসিক মূল্যায়ন সভা
(গ) জরুরি সভা
(ঘ) বার্ষিক সাধারণ সভা
(ঙ) বিশেষ অধিবেশন (যদি প্রয়োজন হয়)
ধারা ২: সভা আহ্বান প্রক্রিয়া
১. সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক নিজ উদ্যোগে বা সদস্যদের এক-তৃতীয়াংশের লিখিত অনুরোধে সভা আহ্বান করবেন।
২. সাধারণ সভার জন্য ন্যূনতম ৩ দিনের পূর্বে, বার্ষিক বা বিশেষ সভার জন্য ৫ দিনের পূর্বে সদস্যদের নিকট নোটিশ পৌঁছাতে হবে।
৩. সভার নোটিশে তারিখ, সময়, স্থান ও আলোচ্যসূচি উল্লেখ থাকতে হবে।
ধারা ৩: কোরাম নির্ধারণ
১. সভা কার্যকর হওয়ার জন্য কমপক্ষে কমিটির মোট সদস্যের এক-চতুর্থাংশ উপস্থিত থাকতে হবে। কোরাম পূরণ না হলে সভা স্থগিত থাকবে এবং নির্ধারিত সময়ের পর
দ্বিতীয়বার কোরাম ছাড়াই আলোচ্যসূচি অনুযায়ী সভা পরিচালনা করা যাবে।
ধারা ৪: সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি
১: অধিকাংশ সিদ্ধান্ত সাধারণ মতের ভিত্তিতে গৃহীত হবে।
২: সমসংখ্যক ভোট হলে সভাপতির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে গণ্য হবে।
৩: গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বা গঠনতন্ত্র সংশোধন সংক্রান্ত বিষয়ে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের
অনুমোদন আবশ্যক।
ধারা ৫: সভার কার্য বিবরণী সংরক্ষণ
১. প্রতিটি সভার কার্যবিবরণী প্রস্তুত করবেন সাধারণ সম্পাদক (বা মনোনীত একজন) এবং সভাপতির অনুমোদনের পর তা রেজিস্টার খাতায় সংরক্ষণ করতে হবে।
২. কার্যবিবরণী পরবর্তী সভায় পাঠ করে অনুমোদন নিতে হবে।
ধারা ৬: বিশেষ নির্দেশনা ও অধিকার
১. উপদেষ্টা পরিষদ প্রয়োজনে কোনো সভা আহ্বান করতে পারবে এবং কমিটির কার্যক্রমে মতামত দিতে পারবে।
২. নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী বিষয়াদি ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না, তবে তাদের জন্য বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।
৩. অডিট কমিটি অর্থনৈতিক বিষয়ে পর্যালোচনার জন্য নির্দিষ্ট সময়ে বৈঠক করবে এবং
লিখিত রিপোর্ট কমিটির সামনে পেশ করবে।
ধারা ৭: অনুপস্থিতি ও জবাবদিহিতা
১. তিন (৩) বার অননুমোদিতভাবে সভায় অনুপস্থিত সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
২. প্রত্যেক সদস্য সভায় নিজ উপস্থিতি এবং বক্তব্যের জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবেন।

📘 অধ্যায় ১৫: ফান্ড সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা
ধারা ১: ফান্ড সংগ্রহের মৌলিক উদ্দেশ্য
১. সংগঠনের দাওয়াতি, শিক্ষামূলক, সমাজসেবামূলক, মানবিক, প্রশিক্ষণ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ফান্ড সংগ্রহ একটি জরুরি দায়িত্ব।
📖 ﴿مَثَلُ ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَٰلَهُمْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ
“যারা আল্লাহর রাস্তায় তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, তাদের দৃষ্টান্ত একটি শস্য দানার
মত…” সূরা আল-বাকারা- আয়াত ২৬১
ধারা ২: ফান্ড সংগ্রহের উৎস ও পদ্ধতী, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা।
১. ফান্ড সংগ্রহের বৈধ ও শরঈ উৎসসমূহ হবে:
ক.সাধারণ দান
খ.মাসিক/বাৎসরিক সদস্য ফি
গ.যাকাত, ফিতরা, সদকা (আলাদা হিসাবসহ)
ঘ.মাহফিল/কনফারেন্স আয়
ঙ. শুভাকাঙ্ক্ষীদের অর্থ সহায়তা
২. প্রত্যেক অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে রশিদ প্রদান বাধ্যতামূলক। ফান্ড কালেকশন কমিটি বা
নির্ধারিত প্রতিনিধি এই দায়িত্ব পালন করবেন।
৩. সংগঠনের সকল ফান্ড একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা নিরাপদ নগদ মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে হবে।
৪. আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব মাসিক, ত্রৈমাসিক ও বাৎসরিকভাবে রক্ষিত ও অডিটযোগ্য হবে।
৫. ফান্ড ব্যবস্থাপনায় নিযুক্ত প্রতিটি সদস্য অভিভাবকের দায়িত্বে থাকবে এবং নিয়মিত হিসাব উপস্থাপন করবে।
৬. বড় অঙ্কের ব্যয় নির্বাহী কমিটির অনুমোদনের মাধ্যমে করতে হবে।
৭. কোনো সদস্য যদি ফান্ড আত্মসাৎ বা অপব্যবহার করেন তাহলে সংগঠনের শৃংখলা
নীতিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ধারা ৩: বার্ষিক প্রতিবেদন ও অডিট
১. প্রতি অর্থবছরের শেষে পূর্ণাঙ্গ ফান্ড রিপোর্ট সাধারণ সভায় উপস্থাপন করতে হবে।
২. প্রয়োজনে নিরপেক্ষ অডিট কমিটি কর্তৃক নিরীক্ষণ করা হবে।
ধারা ৪: ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ে ফান্ড কালেকশন প্রক্রিয়া
১. ওয়ার্ড পর্যায়: প্রতি ওয়ার্ডে একজন “ওয়ার্ড ফান্ড প্রতিনিধি” নিয়োজিত থাকবে। তিনি মাসিক বা এককালীন চাঁদা প্রতি সদস্যের নিকট থেকে গ্রহণ করে ইউনিয়ন কোষাধ্যক্ষের নিকট এক তৃতীয়াংশ জমা দেবেন। রশিদ বই ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
২. ইউনিয়ন পর্যায়: সকল ওয়ার্ডের ফান্ড প্রতিবেদন ও সংগ্রহ প্রতিমাসে ইউনিয়ন কোষাধ্যক্ষ সংরক্ষণ করবেন। মাসের শেষ সপ্তাহে তা থানা কোষাধ্যক্ষের কাছে এক তৃতীয়াংশ জমা দিতে হবে।
৩. থানা পর্যায়: থানা পর্যায়ে একটি শক্তিশালী ফান্ড কালেকশন কমিটি থাকবে। তারা
প্রতি ইউনিয়নের মাসিক ফান্ড জমা গ্রহণ করে প্রধান ফান্ড একাউন্টে জমা রাখবেন।
ধারা ৫: কমিটির সদস্যদের আর্থিক দায়িত্ব
১. কমিটির সকল সদস্যগণ সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন বিধায় তাদের জন্য চাঁদার হার সাধারণ সদস্যদের তুলনায় বেশি নির্ধারিত থাকবে।
২. এই বর্ধিত চাঁদা প্রদান তাদের দায়িত্ববোধ, আত্মনিবেদন এবং সংগঠনের প্রতি নিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে গণ্য হবে।
৩. কোন কমিটির সদস্য যদি ধারাবাহিকভাবে নির্ধারিত চাঁদা প্রদান করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তার দায়িত্ব পালনে অযোগ্য বিবেচনা করা হতে পারে, যা কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।
৪. এই বর্ধিত চাঁদার হার যথাযথভাবে নিয়মিত হালনাগাদ এবং পর্যবেক্ষণ করবে
সংগঠনের ফান্ড ব্যবস্থাপনা কমিটি।
ধারা ৬: চাঁদার হার : দেশের অর্থনৈতিক টাকার ভ্যালু মূল্যায়ন করে চাদার হার কমবেশি করা যেতে পারে। বর্তমান নির্ধারিত মাসিক বা এককালীন চাঁদার হার (প্রস্তাবিত):
সাধারণ সদস্য: মাসিক ৫০/- বা এককালীন ৫০০/-
কার্যনির্বাহী সদস্য: মাসিক ১০০/- বা এককালীন ১০০০/-
উপদেষ্টা: কমপক্ষে ৫০০/- এককালীন অনুদান
অধ্যায় ১৬: যাকাত ফান্ড
ধারা ১ : সংজ্ঞা ও উদ্দেশ্য
১. “যাকাত ফান্ড” হলো শরিয়তসম্মতভাবে সংগৃহীত অর্থ, যা শুধুমাত্র শরিয়ত নির্ধারিত অষ্ট শ্রেণির (৮ শ্রেণির) إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ (سورة التوبة-৬০)) মাঝে বিতরণের জন্য সংরক্ষিত হবে।
২. এই ফান্ডের মূল লক্ষ্য হলো- গরিব, মিসকিন ও দরিদ্রদের সহযোগিতা
সমাজে দারিদ্র্য বিমোচন, দ্বীনি শিক্ষার্থীদের সহায়তা, ইসলামী মানবিকতা ও সহযোগিতার ভিত্তি মজবুত করা

ধারা ২ : আয়ের উৎস
১. ব্যক্তিগত যাকাত
২. প্রবাসী বা স্থানীয় যাকাত অনুদান
৩. গোপনে বা প্রকাশ্যে দেওয়া শরয়ি যাকাত ফান্ডে প্রাপ্ত অর্থ
৪. যাকাত ফান্ডে হেবা/উপহার গ্রহণযোগ্য নয় (শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি আলাদা খাত)
ধারা ৩ : পরিচালনা কাঠামো ও দায়িত্ব
১. যাকাত ফান্ডের জন্য একটি “যাকাত ব্যবস্থাপনা উপ-কমিটি” থাকবে।
২. এই উপ-কমিটি থাকবে ৩-৫ সদস্যবিশিষ্ট, যেখানে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী থাকবেন।
৩. যাকাত ফান্ডের রশিদ বই, হিসাব খাতা ও প্রাপ্তি রেকর্ড বাধ্যতামূলক।
৪. যাকাত গ্রহণ ও বিতরণের আলাদা রেকর্ড রাখতে হবে।
ধারা ৪: নীতিমালা ও বিধিনিষেধ
১. যাকাত শুধুমাত্র শরিয়ত নির্ধারিত ব্যক্তিদের দেওয়া যাবে
২. আত্মীয়তার কারণে বা নিজের পছন্দের লোকদের অগ্রাধিকার দেওয়া যাবে না
৩. যাকাত বিতরণে পরিচয় গোপন রাখা প্রশংসনীয় (তাওয়াদু ও ইখলাসের খাতিরে)
৪. প্রাপ্ত অর্থের ১০০% যেন নির্ধারিত খাতে যায় তা নিশ্চিত করতে হবে
৫. যাকাতের টাকা কখনো সুদী ব্যাঙ্কে রাখা যাবে না
৬. যাকাতের টাকা কোথাও লগ্নি বা ব্যবসা করানো হারাম
ধারা ৫ : জবাবদিহিতা ও অডিট
১. অডিট কমিটি বছরে অন্তত একবার যাকাত ফান্ডের অডিট করবে
২. আয়-ব্যয়ের হিসাব সংশ্লিষ্ট বৈঠকে উপস্থাপন করতে হবে
৩. যাকাত বিতরণ তালিকা (নাম, ঠিকানা গোপন রেখে) সংখ্যাসহ সংরক্ষণ
৪. ফান্ড পরিচালনায় অনিয়ম ধরা পড়লে দায়ী ব্যক্তিকে অপসারণ বা জবাবদিহি করতে হবে
✅ উপসংহার : “যাকাত ফান্ড” হল উম্মাহর জন্য এক অমূল্য নিয়ামত। তা সংরক্ষণ ও সুষ্ঠুভাবে বণ্টনের মাধ্যমে সংগঠন ঈমান, মানবতা ও দায়িত্ববোধের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে পারবে- ইনশাআল্লাহ।

অধ্যায় ১৭: সরকারি, বেসরকারি, ইসলামী রাজনৈতিক দল ও সেবামূলক সংগঠনের সাথে সম্পর্ক ও দায়িত্ব
ধারা ১: ইসলামী আদর্শে সম্পর্কের ভিত্তি
১. লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সরকারি, বেসরকারি, ইসলামি রাজনৈতিক দল ও সমাজসেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে সদাচরণ, সহযোগিতা ও
কল্যাণমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলবে।
ধারা ২: অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব
১. যদি কোনো রাজনৈতিক বা সেবামূলক কর্মসূচি শরীয়তসম্মত ও জনকল্যাণমূলক হয়, তবে সংগঠনের নীতিমালা অনুযায়ী শূরা কমিটির অনুমোদনক্রমে প্রতিনিধি প্রেরণ করা যাবে।
ধারা ৩: নিরপেক্ষতা ও দল-নিরপেক্ষতা
১. সংগঠন কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন হিসেবে কাজ করবে না এবং কোনো দলের প্রচারমুখপাত্র হবে না।
২. সদস্যরা ব্যক্তিগতভাবে রাজনৈতিক সচেতনতা রাখতে পারবেন; তবে সংগঠনের নাম
বা পরিচয়ে দলীয় প্রচারণা বা বিভেদমূলক কর্মকা- নিষিদ্ধ।
ধারা ৪: সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয়
১. শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সেবা ও ইসলামি কার্যক্রমে সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা গ্রহণ করা যাবে, যদি তা শরীয়তবিরোধী না হয়।
২. সরকারি অনুদান বা প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে নিরপেক্ষ যাচাই আবশ্যক।
ধারা ৫: ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আদর্শ রক্ষা
১. সম্পর্ক গঠনের ক্ষেত্রে ইসলামি আক্বীদা ও নৈতিকতার কোনো আপস চলবে না।
২. ইসলামবিরোধী, ধর্মনিরপেক্ষ, অশ্লীল ও বিভেদমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
ধারা ৬: যৌথ কর্মসূচি ও প্রতিক্রিয়া নীতিমালা
১. যৌথ কার্যক্রম গ্রহণের পূর্বে স্পষ্ট শর্ত, ইসলামী সীমারেখা ও লিখিত চুক্তি আবশ্যক।
২. সহযোগিতা হতে হবে মানবতার সেবা, ইসলামের প্রচার ও সামাজিক শান্তির ভিত্তিতে।
৩. ইসলামবিরোধী কর্মকা-ের বিরুদ্ধে শরীয়তসম্মত প্রতিবাদ করা ফরজ।
إِنَّا كَفَيْنَاكَ الْمُسْتَهْزِئِينَ
“নিশ্চয়ই আমি তোমার জন্য বিদ্রূপকারীদের থেকে যথেষ্ট।” সূরা আল-হিজর: ১৫:৯৫
إِلَّا تَنصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ اللَّهُ
“ তোমরা যদি তাঁর সাহায্য না করো, আল্লাহ তাঁকে অবশ্যই সাহায্য করেছেন।”সূরা আত-তাওবা: ৯:৪০
✅ উপসংহার : লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার ইসলামী শরীয়তের সীমার মধ্যে থেকে কল্যাণমুখী সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা গ্রহণ করবে; তবে রাসূল (সা.)-এর মর্যাদা ও ইসলামি আদর্শের বিরোধী কোনো সম্পর্ক বা কর্মসূচিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে।
অধ্যায় ১৮: সংযুক্তি, ফরমেট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়
ধারা ১: সদস্য নিবন্ধন ফরম
১. সংগঠনের প্রত্যেক নতুন সদস্যকে নির্ধারিত ফরম পূরণ করতে হবে, যাতে তার পরিচিতি, স্থায়ী ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইসলামি চিন্তাধারা ও আদর্শের প্রতি অঙ্গীকার উল্লেখ থাকবে।
২. সদস্যের ফরম সংগঠনের রেকর্ড অফিসে সংরক্ষিত থাকবে ।
ধারা.২: সভার রেজুলেশন ও সিদ্ধান্ত ফরম
১. প্রতিটি সভা ও বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তসমূহ লিখিতভাবে রেজুলেশন আকারে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
২. রেজুলেশনে থাকবে- তারিখ, উপস্থিত সদস্যদের তালিকা, আলোচ্য বিষয়, গৃহীত সিদ্ধান্ত ও স্বাক্ষর।
৩. উক্ত রেজুলেশন নির্ধারিত খাতায় বা সফটওয়্যার রেকর্ডে সংরক্ষণযোগ্য।
“وَكُلَّ شَيْءٍ فَصَّلْنَاهُ تَفْصِيلًا
”অর্থ: “আমি সব কিছু বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছি।”- সূরা বনি ইসরাইল (১৭:১২)
ধারা ৩: কমিটি তালিকা ও রেকর্ড
১. প্রতিটি পর্যায়ের (ওয়ার্ড-উপজেলা) কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা নির্দিষ্ট ফরম্যাটে সংরক্ষণ করা হবে।
২. কমিটিতে কার কত মেয়াদ, দায়িত্ব ও যোগাযোগ তথ্য- সব কিছু স্বচ্ছভাবে সংরক্ষিত থাকতে হবে।
৩. নবগঠিত কমিটি অনুমোদনের পর ৩০ দিনের মধ্যে উপজেলা অফিসে জমা দিতে হবে।
“إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ
“তুমি যদি কাউকে দায়িত্ব দাও, তাহলে শক্তিশালী ও আমানতদারকে দাও।”সূরা আল-
কাসাস (২৮:২৬)
✅ উপসংহার ও দৃষ্টিভঙ্গি: এই অধ্যায়ের প্রতিটি ধারা গঠনমূলক কাজের স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। কুরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী একটি সুসংগঠিত এবং সুশৃঙ্খল কাঠামো প্রতিষ্ঠায় এটি অপরিহার্য।

অধ্যায়-১৯: গঠনতন্ত্র সংশোধন ও পরিমার্জন
ধারা ১: সংশোধনের প্রস্তাবনা
১. গঠনতন্ত্রের যেকোনো ধারা বা উপধারার সংশোধন, পরিবর্ধন বা পরিমার্জনের জন্য সক্রিয় সদস্যগণ লিখিত প্রস্তাব দিতে পারবেন।
২. প্রস্তাবে সংশোধনের কারণ, প্রয়োজনীয়তা ও পটভূমি সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে হবে।
৩. সংশোধনের সম্ভাব্য উপকারিতা এবং সংগঠনের কল্যাণে এর ভূমিকা যুক্তি ও দলিলসহ উপস্থাপন করতে হবে।
“وَلاَ يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلٰى أَلَّا تَعْدِلُوا ۚ اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَىٰ”
“কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদের ন্যায়পরায়ণতা থেকে বিরত না রাখে।
ন্যায় অবলম্বন করো; এটাই তাকওয়ার নিকটতর।” সূরা আল-মায়িদা (৫:৮)
ধারা ২: যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া
১. প্রস্তাব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি বিশেষ “গঠনতন্ত্র সংশোধন উপ-কমিটি” গঠন করা হবে।
২. উপ-কমিটি প্রস্তাবের যথার্থতা যাচাই, বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করে সময়মতো রিপোর্ট দেবে।
ধারা ৩: প্রাথমিক অনুমোদন
১. যাচাইকৃত খসড়া উপজেলা নির্বাহী কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করতে হবে।
২. প্রস্তাবটি কমিটির দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন পেলে তা গৃহীত হবে।
ধারা ৫: গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়ন
১. অনুমোদিত সংশোধনী গেজেট আকারে প্রকাশ করে গঠনতন্ত্রে লিপিবদ্ধ করা হবে।
২. সংশোধিত ধারা সকল সদস্যকে অবহিত করে কার্যকর করা হবে।
“وَكُلُّ شَيْءٍ أَحْصَيْنَاهُ كِتَابًا
“আমি সব কিছুকে একটি কিতাবে গণনা করে রেখেছি।”সূরা আন-নাবা (৭৮:২৯)
মন্তব্য: আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক কাজকে লিখিত আকারে সংরক্ষণ করেন- সংগঠনের গঠনতন্ত্র সংশোধনেও লিখিত রূপ এবং নথিভুক্তি আবশ্যক।
✅ সারাংশ: এই অধ্যায়টি কুরআন-সুন্নাহর আলোকে পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সাজানো হয়েছে। এতে উম্মতের ঐক্য, সচেতনতা ও সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের যথাযথ প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে।

অধ্যায় ২০: গঠনতন্ত্র ব্যাখ্যা, সংশয় ও বিরোধ নিষ্পত্তি
ধারা ১: ব্যাখ্যা ও সংশোধনের পদ্ধতি
কোনো ধারা জটিল, অস্পষ্ট বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে নি¤œলিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে:
১. সাধারণ সদস্য বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ লিখিতভাবে ব্যাখ্যার অনুরোধ জানাতে পারবে।
২. গঠিত সংবিধান উপ-কমিটি (যদি থাকে) বিষয়টি পর্যালোচনা করবে।
৩. গঠনতন্ত্র প্রণেতা ও সংশোধনী কমিটির ব্যাখ্যা নির্বাহী কমিটির মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য হবে।
✅ উপসংহার : গঠনতন্ত্র সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যাখ্যা, সংশোধন বা মতবিরোধে শরীয়াহ অনুযায়ী নির্বাহী কমিটি কর্তৃক সমাধানই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হবে।
একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে সম্মিলিত পরামর্শ ও কুরআন-সুন্নাহর ফয়সালাকেই সর্বোচ্চ মর্যাদা দিতে হবে।

অধ্যায়: ২১ পরিশিষ্ট: গঠনতন্ত্র প্রণেতা ,গঠনতন্ত্রের সারসংক্ষেপ, গঠনতন্ত্র অনুমোদন
ধারা ১. পরিশিষ্ট-১: গঠনতন্ত্র প্রণেতা ও সহযোগীগণ
১. গঠনতন্ত্র প্রণেতা
নাম: মুফতি আলমগীর
মোবাইল: ০১৮১৭৬৪৮৮২০
পদবি: গঠনতন্ত্র প্রণেতা ও পরামর্শক
পরিচিতি: মুফতি, শিক্ষক ও সংগঠক
উপদেষ্টা, লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার।
✅ প্রণেতার বক্তব্য:
“এই গঠনতন্ত্রটি ইসলামী আদর্শ, কুরআন-সুন্নাহ এবং সময়োপযোগী সংগঠন কাঠামোর আলোকে দাওয়াহ, ফান্ড ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে এই গঠনতন্ত্র রচনা করা হয়েছে। এতে শরীয়াহ এবং বাস্তব দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করা হয়েছে।”
২. গঠনতন্ত্র সম্পাদনায়
(ক) হা: মাওলানা ফখরুদ্দীন হোসাইন
উপদেষ্ঠা, লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার,
মোবাইল : ০১৯১২৪০৩৮৫৮
(খ) মাও: শহীদুল্লাহ
উপদেষ্টা, লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার
মোবাইল : ০১৮৩৪২০৭৭৭৬
৩. সহযোগী সদস্যবৃন্দ
১. মাওলানা আবু সালেহ, সভাপতি, লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার।
মোবাইল: ০১৯৩২০৪১৯৩৫
২.মাওলানা আবুল হাশেম, সহসভাপতি, লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার।
মোবাইল : ০১৮৩২৪০৯০৩১
৩. মাওলানা আইয়ূব, সাধারণ সম্পাদক, লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার।
মোবাইল: ০১৯৮৯৮৯১৪৯৯
৪. মাওলানা গিয়াসুদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক, লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার।
মোবাইল : ০১৬৭৪০৭৯৫০৪
৫. মুফতি ইসমাইল করিম, সহ অর্থ সম্পাদক, লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার।
মোবাইল : ০১৬৪৮০৫৪৯১৩
৬. মাওলানা শামীম হোসাইন, সহ প্রচার সম্পাদক, লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার।
মোবাইল : ০১৯১২৮৩৯২৬০

ধারা ২.পরিশিষ্ট-২: গঠনতন্ত্রের সারসংক্ষেপ
১. গঠনতন্ত্রের প্রকৃতি:
এই গঠনতন্ত্র “লাজনাতুল উলামা আড়াইহাজার” সংগঠন পরিচালনার জন্য শরিয়তসম্মত একটি রূপরেখা। এটি দলীয় বা গণতান্ত্রিক রাজনীতি নয়; বরং ইসলামি আদর্শে আমানত ও দায়িত্ব পালনে সহায়ক একটি দলিল।এতে রয়েছে ২১ টি অধ্যায় এবং ১৪৯টি ধারা।
২. মূল কাঠামো ও বিষয়বস্তু
১. পরিচিতি ও উদ্দেশ্য: সংগঠনের নাম, প্রকৃতি, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ইসলামি আদর্শ অনুসারে।
২. সাংগঠনিক স্তর:
ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা ও উপদেষ্টা পরিষদ নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩. পদসমূহ ও দায়িত্ব:
সভাপতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সম্পাদকদের সংজ্ঞা, যোগ্যতা, দায়িত্ব ও ইসলামি ভিত্তি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
৪. শৃঙ্খলা ও শাস্তিমূলক বিধান:
সদস্যের দায়িত্ব, শৃঙ্খলাভঙ্গ, শাস্তি ও আপিল পদ্ধতি নির্ধারিত আছে।
৫. নির্বাচন ও কমিটি গঠন:
নির্বাচন কমিশন পদ্ধতিতে নির্বাচন ও কমিটি গঠনের ধারা নির্ধারিত।
৬. সদস্যপদ, চাঁদা ও ফান্ড:
সদস্যতার যোগ্যতা, প্রক্রিয়া এবং অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চাঁদা ও ব্যয়ের নিয়মাবলী নির্ধারিত।
৭. সরকারি-বেসরকারি সম্পর্ক:
সংগঠন কিভাবে ইসলামী দৃষ্টিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করবে তার দিকনির্দেশনা আছে।-
৮ গণতন্ত্র বিষয়ে অবস্থান:
এই গঠনতন্ত্র কোনো মতবাদভিত্তিক গণতন্ত্রের অনুসারী নয়। এতে ইসলামি পরামর্শ
পদ্ধতি (শূরা) অনুসরণ করে নেতৃত্ব নির্বাচন ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
✅ উপসংহার: এই গঠনতন্ত্র একটি ইসলামী নেতৃত্ব কাঠামো যা দ্বীনের খেদমত, উলামাদের ঐক্য ও সমাজ সংস্কারমূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রণীত। এটি শরিয়াহর সীমারেখা মেনে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন ও জবাবদিহিতার মান রক্ষা করে।
নোট: এই সারসংক্ষেপটি গঠনতন্ত্রের মূল বিষয়বস্তুর দিক-নির্দেশনা মাত্র।
বিস্তারিত জানতে মূল গঠনতন্ত্রের অধ্যায়সমূহ পাঠ করুন।
ধারা ৩. পরিশিষ্ট-৩: গঠনতন্ত্র অনুমোদন কর্তৃপক্ষ ও পদ্ধতি
✅ গঠনতন্ত্র অনুমোদন কারা দিবে?
১. নির্বাহী কমিটির ১০জন, ইউনিয়ন ও পৌরসভার সভাপতিগণ গঠনতন্ত্রের খসড়া প্রণয়ন, পর্যালোচনা, প্রস্তাবনা ও উপস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে, কিন্তু চূড়ান্ত অনুমোদনের ক্ষমতা থাকবে নির্বাহী কমিটির এক-তৃতীয়াংশের হাতে।
✅ অনুমোদনের পদ্ধতি
১. খসড়া প্রস্তুত: প্রণেতা বা সংশ্লিষ্ট কমিটি গঠনতন্ত্রের খসড়া প্রস্তুত করবে।
২. নির্বাহী কমিটিতে আলোচনা: থানা পর্যায়ের নির্বাহী কমিটি এটি পর্যালোচনা করে তা রেজিলেশন বুকে সংরক্ষিত রাখবে।
৩. মতামত গ্রহণ ও সমন্বয়: প্রত্যেক সদস্য তাদের মতামত দেবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন যুক্ত হবে।
৪. সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (ইজমা): সম্মতিসূচক পরামর্শের ভিত্তিতে চূড়ান্ত গৃহীত হলে সেটিই অনুমোদিত গঠনতন্ত্র হিসেবে গণ্য হবে।
৫. স্বাক্ষর ও সংরক্ষণ: উপদেষ্টা পরিষদের নির্ধারিত সদস্যরা তারিখসহ স্বাক্ষর করবেন
এবং তা রেজিস্টারভুক্ত ও সংরক্ষিত থাকবে।
✅ উপসংহার: গঠনতন্ত্রের অনুমোদন কোনো একক ব্যক্তির হাতে নয়, বরং সম্মিলিত
সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হবে।
৮ .গঠনতন্ত্র অনুমোদনের পদ্ধতি (নিয়মতান্ত্রিক পরামর্শ)
১. চূড়ান্ত খসড়া তৈরি শেষে তা নির্বাহী কমিটির সভায় উপস্থাপন করবেন।
২. নির্বাহী সদস্যদের মাঝে প্রতিলিপি বিতরণ করে কমপক্ষে ৭ দিন সময় দেওয়া হবে মতামত ও সংশোধনীর জন্য।
৩. প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে চূড়ান্ত খসড়া আবার উপস্থাপন করা হবে।
৪. সর্বসম্মতিতে বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে তা অনুমোদিত হবে।
৫. অনুমোদিত গঠনতন্ত্রে সংশ্লিষ্ট কমিটির স্বাক্ষর ও তারিখ যুক্ত থাকবে।